• সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ

নরসিংদীর শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেলের খালার বাড়ী থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, বে-পরোয়া শাহ আলম বাহিনী

Reporter Name / ১৭৫ Time View
Update : সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন


পারভেজ মোশারফ : নরসিংদীর শীর্ষ  সন্ত্রাসী গ্রেফতারকৃত সোহেল মিয়ার খালা ফিরোজা বেগমের বসত ঘর থেকে শীতলপাটিতে মোড়ানো দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে রায়পুরা থানা পুলিশ।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদের নেতৃত্বে অভিযানকালে একটি চাইনিজ রাইফেল, একটি একনলা বন্দুক, একটি কিরিচ, পাইপগানের একটি অংশ ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এ সময় শ্রীনগর এলাকার অলিউর রহমানের স্ত্রী ফিরোজা বেগমসহ আরও এক নারীকে আটক করে পুলিশ।

আটক হওয়া ফিরোজা বেগম জানান, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলো তার ভাগনে সোহেল মিয়ার। এ নিয়ে সোহেল ও তার স্বজনদের কাছ এখন পর্যন্ত সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে গত ২১ জুলাই রায়পুরার শ্রীনগর এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছিল।

ওসি আদিল মাহমুদ বলেন, ‘সোহেল শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যাসহ ১২টি মামলা রয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চরাঞ্চল থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী নির্মূলে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রিয়াজ মোরশেদ খান রাসেলের সঙ্গে বিরোধের জেরে তার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী গৃহবধূ শান্তা ইসলামকে হত্যা করে সোহেল ও তার সহযোগীরা। তারপর থেকেই সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি, মারধরসহ, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসাসহ একাধিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ে সোহেল ও তার সহযোগীরা। তার তাণ্ডবে বহু মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।

স্থানীয়রা আরো জানায়, সোহেল রায়পুরা চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে অপরাধী গ্রুপগুলোর কাছে অস্ত্র বেচাকেনা ও ভাড়া দিতো। তার রয়েছে জেলাব্যাপী মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক। তার নিকট থেকে অস্ত্র নিয়ে সায়দাবাদ গ্রামের শাহ আলম বাহিনী গত বছরের ২২ আগষ্ট একই দিনে ৬টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হলেও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী সন্ত্রাসী শাহ আলম বাহিনীর লোকজন এলাকা ছেড়ে যায়নি। উপরোন্ত শাহ আলম বাহিনীর লোকজন ৩০/৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রতিদিন সায়দাবাদ গ্রামে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে। শাহ আলম বাহিনীর অস্ত্রের কাছে বাশঁগাড়ী পুলিশ ফাড়ির কয়েকজন পুলিশ যেন অসহায়। টহলরত অবস্থায় পুলিশের সদস্যদের অনেকটা অসহায় অবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা গেছে।

গত ২১ জুলাই সায়দাবাদ গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের এরশাদ গ্রুপের গুলিতে শাহ আলম গ্রুপের মোমেনা (৫০) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। এ ঘটনায় গ্রামের বিভিন্ন গোষ্টির প্রায় ৭২ জনকে আসামী ও অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০জনকে আসামী করে রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

প্রতিপক্ষের লোজনের উপর মামলা দায়েরের পর থেকে শাহ আলম বাহিনী আরো বে-পরোয়া হয়ে উঠে। প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে তার বাহিনীর লোকজন গ্রামে বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থান করতে দেখা যায়। ইতোমধ্যে শাহ আলম বাহিনীর লোকজন গ্রামের নিরীহ সাধারণ মানুষের বাড়ীতে চাঁদাদাবী, দাবীকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বাড়ীঘরে লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে সম্পূর্ণ নি:স্ব অবস্থায় লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করছে। গৃহবধু হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত  প্রতিপক্ষ ও নিরীহ শান্তিপ্রিয় গ্রামবাসীর প্রায় অর্ধ শতাধিক বাড়ীঘরের মালামাল লুট করে অগ্নি সংযোগ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজি ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় থানায় মামলা করার সাহস পাচ্ছেনা ভোক্তভূগীরা। অগ্নি সংযোগের ঘটনার খবর পেয়েও রায়পুরা থানা পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি বলে গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন জানিয়েছে।

এদিকে গত ২১ জুলাই সোহেল যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর স্বস্তি ফিরেছে শ্রীনগরসহ চরাঞ্চলের ৬টি ইউনিয়নের লোকজনের মাঝে। তবে তার সহযোগীদের কাছে এখনও অনেক অস্ত্র আছে। সোহেলের সকল সহযোগীকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts