• শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন |
  • English Version

হীরাঝিলে ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তারে আতঙ্ক, ঝুঁকিতে শতাধিক পরিবার

Reporter Name / ৮ Time View
Update : শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন


নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন বাসিন্দাদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহুতল ভবনের বারান্দা ও জানালার গা ঘেঁষে টানানো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন (এইচটি) বিদ্যুতের লাইন এবং ইনসুলেশনবিহীন (কাভারবিহীন) তারের কারণে শতাধিক পরিবার প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বয়স্করা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

 

সম্প্রতি সরেজমিনে হীরাঝিল আবাসিক এলাকার ২ নম্বর সড়ক, ৩ নম্বর সড়ক ও মুক্তি সরণি ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি বহুতল ভবনের দুই ও তিনতলার বারান্দা ও জানালার খুব কাছ দিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন চলে গেছে। কোথাও কোথাও তার ঝুলে রয়েছে, আবার ভবন সম্প্রসারণের কারণে অনেক স্থানে নিরাপদ দূরত্বও আর বজায় নেই। ফলে সামান্য অসাবধানতাই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মারুফ খন্দকার বলেন, “প্রতিদিন ভয় নিয়ে বাসা থেকে বের হই, আবার ভয় নিয়েই ফিরি। আমাদের ছোট বাচ্চা আছে। বারান্দায় খেলতে দিতে সাহস পাই না। এক মুহূর্তের অসাবধানতায় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

 

গৃহিণী তাহেরা আক্তার বলেন, “গরমের সময় জানালা খুলে রাখা যায় না। কাপড় শুকাতেও ভয় লাগে। বিদ্যুতের তার এত কাছ দিয়ে গেছে যে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বহুবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

 

মুক্তি সরণির বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, “মনে হচ্ছে সবাই কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষায় আছে। প্রাণহানির পর যদি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে তার কোনো মূল্য থাকবে না।”

 

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, এলাকায় অনেক শিশু বসবাস করে। খেলতে গিয়ে তারা প্রায়ই বারান্দা ও জানালার পাশে চলে যায়। এ অবস্থায় বিদ্যুতের তারের এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান শিশুদের জীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

 

বাসিন্দাদের ভাষ্য, শুধু ২ ও ৩ নম্বর সড়ক কিংবা মুক্তি সরণিই নয়, হীরাঝিল আবাসিক এলাকার আরও কয়েকটি স্থানে একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। ভবন নির্মাণের পর প্রয়োজনীয় সমন্বয় না করায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

 

হীরাঝিল সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন বলেন, “এটি নতুন কোনো সমস্যা নয়। আমরা অনেক আগেই ডিপিডিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। ঝুঁকিপূর্ণ তারগুলো ইনসুলেটেড করা বা নিরাপদ দূরত্বে স্থানান্তরের অনুরোধ জানানো হলেও আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”

 

তিনি আরও বলেন, “এ এলাকায় অসংখ্য পরিবার ও ছোট ছোট শিশু বসবাস করে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনগুলো নিরাপদ করা প্রয়োজন। দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলে হারানো প্রাণ আর ফিরে আসবে না।”

 

এ বিষয়ে ডিপিডিসির সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, “হীরাঝিল আবাসিক এলাকার এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। তবে সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের কারিগরি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে।”

 

তিনি আরও বলেন, “পরিদর্শনে যদি দেখা যায় কোনো বিদ্যুৎ লাইন নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী স্থাপন করা হয়নি অথবা ভবনের খুব কাছ দিয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তাহলে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ লাইন ইনসুলেটেড করা, স্থানান্তর করা বা নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। মানুষের নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

 

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত কারিগরি জরিপ পরিচালনা করে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন অপসারণ বা স্থানান্তর এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।




আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts