
মনোহরদীতে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, মনোহরদী, নরসিংদী
নরসিংদীর মনোহরদীতে এইচএসসি পরীক্ষায় ভুল এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্রে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় দুটি কক্ষের প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষে ৩০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। মনোহরদী সরকারি কলেজের ৬১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে দুটি কক্ষের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের নতুন সিলেবাসের নির্ধারিত প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে বাংলা প্রথম পত্রের ‘খ’ সেটের ১২১ কোডের ভিন্ন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়।
পরীক্ষার হলে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরীক্ষা শেষে বাড়িতে গিয়ে উত্তর মিলানোর সময় শিক্ষার্থীরা ভুলটি জানতে পারেন। এরপর ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থী তাদের ফলাফল নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
পরীক্ষার্থী সাকিবা বলেন, “পরীক্ষার হলে আমরা বুঝতেই পারিনি যে ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে এসে উত্তর মিলিয়ে দেখি, আমাদের ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এখন ভালো ফলাফল নিয়ে আমরা চিন্তিত।”
খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীন মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান করছেন এবং পরে বিস্তারিত জানাবেন।
মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জানা যায়। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহেলার কারণেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টির সমাধানে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আরেফা সুলতানা (হল সুপার), প্রভাষক সামছুল আলম, প্রভাষক মাহমুদুর রহমান এবং প্রভাষক মো. আক্রাম হোসেনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এ. মুহাইমিন আল জিহান বলেন, প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে পৌঁছানোর আগে একাধিক ধাপ অতিক্রম করে। তাই এক পরীক্ষার প্রশ্ন অন্য পরীক্ষায় চলে আসা প্রায় অসম্ভব। প্রাথমিকভাবে দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের ভুলেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্র সচিব ও খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।