
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়নে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের অভিযোগে আব্দুল মোতালিব (৬৪) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মহিউদ্দিন (৫৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে নিহতের ছেলে পিয়াল হাসান বাদী হয়ে মহিউদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন মেম্বার এবং তার ভাগিনা মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পেনাল কোডের ৩০২, ৪০৬, ৩৪ ও ১১৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
নিহত আব্দুল মোতালিব বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কুলচরিত্র এলাকার বাসিন্দা। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে কুলচরিত্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, প্রায় এক বছর আগে সুতার ব্যবসার জন্য আব্দুল মোতালিব স্থানীয় ব্যবসায়ী মহিউদ্দিনকে ১২ লাখ ১৩ হাজার টাকা দেন। দীর্ঘদিনেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে গত ১২ জুন মহিউদ্দিনের বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিষ্পত্তির দায়িত্ব নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে পাওনা টাকার বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন মেম্বারের সঙ্গে আব্দুল মোতালিবের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে দাড়ি ধরে ধাক্কা ও কিল-ঘুষি মারা হলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুছাপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম বলেন, “আমার পরিষদের কোনো সদস্য অন্যায় করে থাকলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।”
কামতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. তৈয়বুর রহমান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যবসায়ী মহিউদ্দিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামি মহিউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।