
বৈষম্যমুক্ত মানবিক ফোরাম, নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে “জুলাই বিপ্লব: অধিকার সচেতনতার নতুন জাগরণ” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) বাদ মাগরিব গোগনগর পূর্ব মশিনাবন্ধ এলাকায় আয়োজিত এ সভায় তরুণ ছাত্রসমাজ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, কবি-সাহিত্যিক, সমাজসেবক, প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মো. মামুন হোসেন। বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. সাইফুল হোসেন, মো. আলমগীর হোসেন, মো. জসিম মিয়া, মো. পমেল হোসেন এবং মো. রাসেল মিয়া। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন রবিউস সানি টুটুল এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মো. মকবুল হোসেন। অনুষ্ঠানে আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন, জবাবদিহিতা, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং তরুণদের আত্মত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কেবল একটি স্মৃতি নয়; এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জসীমউদ্দীন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লব: অধিকার সচেতনতার নতুন জাগরণ শুধু একটি স্মৃতি নয়, এটি অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামীর বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সমাপনী বক্তব্যে প্রধান আলোচক মো. মামুন হোসেন বলেন, “জুলাইয়ের চেতনা আমাদের ঐক্য, সংগ্রাম ও পরিবর্তনের শিক্ষা দেয়। একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তরুণদের অংশগ্রহণ এবং জনগণের সচেতনতা জাতির অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের আদর্শকে ধারণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের সবার দায়িত্ব।”
অনুষ্ঠান শেষে সভাপতি জসীমউদ্দীন সফল ও প্রাণবন্ত এ আয়োজন বাস্তবায়নে সহযোগিতা করায় উপস্থিত অতিথি, সংগঠক ও অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আলোচনা সভা সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।