• সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন |
  • English Version

৩০০ শয্যা হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য: কারাদন্ডেও মিলছে না সুফল

Reporter Name / ১ Time View
Update : সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন


নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ঘিরে সক্রিয় রয়েছে অন্তত ডজনখানেক দালাল চক্র। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা এসব দালালের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দালালদের উৎপাতের কারণে সরকারি হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

 প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগসহ আশপাশ এলাকায় প্রতিদিন সক্রিয় থাকে সংঘবদ্ধ কয়েকটি দালাল চক্র। তারা বিভিন্ন কৌশলে রোগীদের ফুসলিয়ে আশপাশের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। এসব চক্রে নারী সদস্যও রয়েছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকায় তাদের সহজে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের চিকিৎসকের কক্ষ থেকে রোগী বের হওয়ার পরপরই দালাল চক্রের সদস্যরা প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে রোগীদের নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে চাপ দেয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের বলা হয় হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা বা পরীক্ষা দ্রুত পাওয়া যাবে না। এতে বিভ্রান্ত হয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে।

 

এছাড়া গুরুতর অসুস্থ রোগীদের টার্গেট করে আরেকটি দল হাসপাতালের বাইরে অবস্থান নেয়। রোগী হাসপাতালে প্রবেশের আগেই তারা স্বজনদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ সময় লাগবে। পরে দ্রুত চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় তারা।

শান্ত নামে এক রোগী ১০ টাকার টিকিট কেটে চিকিৎসা নিতে চাইলে হাসপাতালের এক দালাল ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাকে পাশের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে শান্ত বুঝতে পারে সে দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েছে। পরে সে দ্রুত হাসপাতালেই ফিরে আসে।

 

সূত্র জানায়, সংঘবদ্ধ এ দালাল সিন্ডিকেট দুটি ভাগে কাজ করে। একটি অংশ হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করে রোগীদের তথ্য সংগ্রহ ও প্রভাবিত করে। অপর অংশ হাসপাতালের বাইরে অবস্থান নিয়ে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কাজ করে। প্রতিটি রোগী নিয়ে যাওয়ার বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন পান দালালরা। রোগীর খরচ যত বেশি হয়, কমিশনের পরিমাণও তত বাড়ে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর এসব কমিশনের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এর আগে বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসন ও র‌্যাব ১১ যৌথ অভিযান অভিযান চালিয়ে দালাল চক্রের কয়েক সদস্যকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা ও নগদ অর্থ জরিমান করলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পরেই আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে চক্রটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় দালালদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।

 

নগরবাসীর দাবি, হাসপাতাল এলাকায় স্থায়ী নজরদারি, সিসিটিভি মনিটরিং বৃদ্ধি এবং দালালদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা না হলে এই সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব কঠিন হবে । একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts