
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বাজার দখল, চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক ফল ব্যবসায়ী। সালাহউদ্দিন সিদ্ধিরগঞ্জের এক নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আজিজুল হক (৬০) দীর্ঘদিন ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ পুলসংলগ্ন বাজারে ফলের ব্যবসা করে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, একই এলাকার বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন (৫৫) স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে বাজারের সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ এবং সেখানে আধিপত্য বিস্তার করছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত সালাউদ্দিন বাজারের প্রতিটি দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখানোসহ দোকান থেকে উচ্ছেদ করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করলেও সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে পুনরায় বাজারে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজিজুল হক আরও জানান, অভিযুক্ত তাকে একটি পাকা দোকান দেওয়ার কথা বলে ৬ হাজার টাকা নেন, তবে পরে নানা অজুহাতে তা দেননি। বরং তার দোকানটি কয়েক দফা স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত এক মাস ধরে অসুস্থ থাকার কারণে তিনি চাঁদা দিতে না পারায় অভিযুক্ত ক্ষুব্ধ হন। এর জেরে গত ২৪ এপ্রিল তিনি বাজারে দোকান বসাতে গেলে সালাউদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন এসে তাকে গালিগালাজ করেন এবং তার দোকানের মালামাল মাটিতে ফেলে নষ্ট করে দেন। এতে প্রায় ৮০ হাজার টাকার ফল নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এসময় তাকে ও তার ছেলেকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং দোকান ভাঙচুর করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি ভবিষ্যতে বাজারে ব্যবসা করতে গেলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর দখল-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজিতে বেপরোয়া হয়ে উঠে সালাউদ্দিন ও তার ভাইয়েরা। চাঁদাবাজি করার সময় হাতে নাতে তার এক ভাই কামালকে ধরে ছাত্র-জনতা গণপিটুনী দেয়। পরে তাকে স্থানীয় সেনাবাহিনী ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
সালা উদ্দিন চাউল ব্যবসার আড়ালের নানা অপকর্ম আর চাঁদাবাজি করে আসছে। শুরু থেকে বিএনপির সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিনের সাথে থেকে এলাকার নানা অপকর্ম করে আসলেও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কয়েকদিন আগে পল্টি দিয়ে আজহারুল ইসলাম মান্নানের শিবিরে যোগ দেয় চতুর সালাউদ্দিন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম বিক্রি করে সালাউদ্দিন বাহিনী জবর-দখল, চাঁদাবাজি করে আসছে। এতে এমপি মান্নানের বদনাম করছে সালাউদ্দিন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এদিকে ভুক্তভোগীরা তদন্তপুর্বক সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ।
সালাউদ্দিনের বিরেুদ্ধে থানায় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাবে বলে জানান।