
সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বি বলেছেন, হত্যা, গুম, খুন, আয়নাঘরের মধ্যদিয়ে শেখ হাসিনা দেশে একটি দুর্বিসহ পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন, জেলায় জেলায় মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিলেনÑ এর পরিণতি তিনি ভোগ করছেন। আজকে যারা ক্ষমতায় এসেছেন এইটি তাদের মনে রাখতে হবে। তারা যদি সেই ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখেন তা তাদের জন্য বুমেরাং হয়ে ফিরে আসবে।
তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ১৫৭ মাস উপলক্ষে বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোক প্রজ¦ালন কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আজকে আমরা নারায়ণগঞ্জে কারো কারো ওসমান পরিবারের মতো গডফাদার হয়ে ওঠার লক্ষন দেখছি, মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষন দেখছি। পরিবহন, বাজার, ঘাট, ফটপাত, সরকারী জায়গাÑ এমনকি শহীদ মিনার পর্যন্ত তাদের চাঁদা আদায়ের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কোন কোন মন্ত্রী চাদাবাজদের তালিকা করার কথা বলছেন। এইটি ভালো কথা। কিন্তু এ সব চাঁদাবাজদের তালিকা সকল গোযেন্দা সংস্থার হাতে আছে। সরকারীদলের বাইরে কখনো কেউ চাঁদাবাজি করে না, করতে পারে না। এখনি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। এরা কখনো দলের ক্ষতি ছাড়া মঙ্গল বয়ে আনে না। পুলিশ প্রশাসনকে বলবো সরকার দলীয় বাহিনী না হয়ে জনগণের হোন। অতীত থেকে শিক্ষা নিন। শুধু ইউনিফর্ম বদলালে হবে না, স্বভাব বদলাতে হবে।
রফিউর রাব্বি বলেন, ১৩ বছরেও ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্রটি আদালতে গড়ায় নি। এখনতো গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে। আমরা তাদের কাছে সুবিচার প্রত্যাশা করি। অতি দ্রুত অভিযোগপত্র দিন। সাগর-রুনী, তনু হত্যার বিচার করুন। আমরা চব্বিশের অভ্যুত্থানে নিহতসহ সকল হত্যার বিচার চাই।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শেখ হাসিনা জনগণের বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার হরণ করেছিলেন। আজকে সরকারকে সে অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করে এর স্বাধীনতা নিশ্চিৎ করতে হবে। ত্বকী হত্যার সাথে জড়িত শামীম ওসমান সহ সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রথীন চক্রবর্তী, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি সাংবাদিক হালিম আজাদ, খবরের পাতার সম্পাদক এড. মাহাবুবুর রহমার মাসুম, ন্যাপ জেলা সাধারণ সম্পাদক এড. আওলাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের উপদেষ্টা এড. প্রদীপ ঘোষ বাবু, সিপিবির জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাসদের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এস.এম. কাদির, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা নির্বাহী সমন্বয় অঞ্জন দাস, সামাজিক সংগঠন সমমনার উপদেষ্টা দুলাল সাহা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহামুদ হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমান ও কবি বিকিস ঝর্ণা প্রমুখ
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। এর দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর আজমেরী ওসমানের সহযোগী সুলতান শওকত ভ্রমর এবং ২০২৪ সালে কাজল হাওলাদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানায়, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। র্যাব ৫ মার্চ ২০১৪ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদেরই টর্চারসেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবেন। কিন্তু সে সম্মেলনের দুই মাস পরে ৩ জুন শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে ওসমান পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর সমস্ত বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। সে অভিযোগপত্র আর আদালতে পেশ করা হয় না। ত্বকী হত্যার পর থেকে বিচার শুরু ও চিহ্নিত আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।