
উচ্চ আদলতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড় থেকে ঢাকার যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবাধে চলাচল করছে শতাধিক লেগুনা। আর এসব লেগুনা নিয়ন্ত্রণের নামে বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাসানুজ্জামান পরশ ওরফে পরশ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা পরিচয় দিয়ে লেগুনা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি কখনও মৎস্যজীবী দল, কখনও শ্রমিক দল, আবার কখনও তাঁতী দলের নেতা হিসেবে পরিচয় দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
লেগুনা চালকদের অভিযোগ, বর্তমানে শিমরাইল মোড় থেকে যাত্রাবাড়ী রুটে প্রায় ১৮০টি লেগুনা নিয়মিত চলাচল করছে। লাইনম্যান, প্রশাসন ও বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করার কথা বলে প্রতিটি লেগুনা থেকে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হয়। সে হিসেবে প্রতিদিন প্রায় ১৬ হাজার ২০০ টাকা এবং মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
চালকদের দাবি, যাত্রী সংকট ও বাড়তি ব্যয়ের কারণে তারা এমনিতেই আর্থিক চাপে রয়েছেন। এর মধ্যে নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক লেগুনা চালক বলেন, “গাড়ি চলুক বা না চলুক, প্রতিদিন নির্ধারিত টাকা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে লাইনে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।”
আরও অভিযোগ রয়েছে, মহাসড়কে নতুন কোনো লেগুনা নামাতে হলে সংশ্লিষ্ট চক্রকে ‘সালামি’ হিসেবে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। এ খাত থেকেও লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি চালকদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসানুজ্জামান পরশের বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিজমিজি এলাকার আব্দুল আলী পুল সংলগ্ন এলাকায়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তিনি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে লেগুনা স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। চলাচলরত অনেক লেগুনার চালক ও হেলপার অপ্রাপ্তবয়স্ক। অনেকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, রুট পারমিট কিংবা বৈধ কাগজপত্র নেই। ফিটনেসবিহীন যানবাহনও মহাসড়কে চলাচল করছে। ফলে প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসানুজ্জামান পরশের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) জুলহাস উদ্দিন বলেন, “টাকা আদায়ের অভিযোগের বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) মো. হাছিনুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”