
বন্দরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রচন্ড গরম পড়ার সাথে সাথে সামান্য বাতাস বা গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে। গত রোববার ও সোমবার পুরো উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং হয়েছে। গত ২ দিন এক ঘন্টা পর পর দুই ঘন্টা লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বন্দর উপজেলায় বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা প্রায়
৩০-৩৫ মেগাওয়াট। অথচ জাতীয় গ্রিড থেকে বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র সাড়ে ১৫ থেকে ২০ মেগাওয়াট—যা চাহিদার তুলনায় অর্ধেক। সরবরাহে এই বিশাল ঘাটতির কারণে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং দিচ্ছে।
বন্দরে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। লোডশেডিংয়ের জন্য তেল সংকটের পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুৎ
সমিতির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদাসীনতা, অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারিতাকে দায়ী করছেন গ্রাহকরা। গত এক সাপ্তাহ ধরে দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে বলে জানান তারা।
ঘারমোড়া এলাকার গৃহিণী সুমনা রহমান বৃষ্টি জানান, দিন-রাতে কয়েক দফায় বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় কারণে নাগরিক জীবন প্রায় বিপর্যস্ত। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ সকলের।
খাইরুল আলম পাশা নামে এক ব্যবসায়ী জানান, বিদ্যুৎ লোকচুরি খেলার কারনে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়াসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বন্দর জোনের ডিজিএম পারভেজ ভূঁইয়া জানান, তেল সংকটের কারনে আগের তুলনায় বর্তমানে অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছি। যে কারণে দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছেনা। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হচ্ছে। গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে লোডশেডিং কমবে।