
নরসিংদীতে গত কয়েকদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একদিকে তলিয়ে গেছে মাঠের পাকা ধান, অন্যদিকে অতিবৃষ্টিতে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ।
জেলার বিভিন্ন উপজেলা—বিশেষ করে রায়পুরা, বেলাব ও মনোহরদীর নিম্নাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে বিস্তীর্ণ মাঠের ধান তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে ঝোড়ো হাওয়ায় আধাপাকা ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। কৃষকরা জানান, ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে এই দুর্যোগ তাদের সারা বছরের কষ্ট বিফলে দিচ্ছে।
স্থানীয় এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, “ধারদেনা করে চাষ করেছিলাম, আর কয়েকদিন পর ধান ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু পানিতে সব ডুবে গেল। এখন ধান পচে যাওয়ার ভয় করছি।” কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্যমতে, কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে শুধু ফসলের মাঠই নয়, নরসিংদীর গ্রামীণ জনপদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে কাঁচা রাস্তা ধসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। পাকা রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বাজারে পণ্য আনা-নেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসায় রোগীদের যাতায়াতে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
অকাল এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নরসিংদীর কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকারের বিশেষ বরাদ্দ ও সহযোগিতা কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।