
আপডেটঃ ১:৫৮ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৮, ২০২৬
দিনাজপুর:- ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবসের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ।দিনাজপুর রেল স্টেশনে দেখা গেছে, বৈশাখের তীব্র দাবদাহে ট্রেনের ছাদ যেন তপ্ত তাওয়ার মতো গরম হয়ে উঠেছে, তবুও জীবিকার তাগিদে শত শত মানুষ সেই ছাদেই বসে ঢাকার পথে যাত্রা করছেন।প্রিয়জনের সান্নিধ্য ছেড়ে কর্মব্যস্ত নগর জীবনে ফেরার এই যাত্রা হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য।রোববার থেকে অফিস-আদালত খোলার কারণে কর্মজীবী মানুষের ওপর তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ।বাসের টিকিট না পাওয়া এবং ট্রেনের ভেতরে তিল ধারণের জায়গা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে উঠছেন।
বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এমন বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে যাত্রীদের।শুক্রবার (২৭ মার্চ) পঞ্চগড় থেকে আসা যাত্রী আব্দুল্লাহ ও রঞ্জু জানান, ট্রেনের ছাদ এতটাই গরম যে সেখানে সহজেই রুটি ভাজা সম্ভব।তীব্র এই উত্তাপ মাথায় নিয়েই তাদের ১১ থেকে ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা করতে হচ্ছে।তারা বলেন, জীবিকার তাগিদেই এই কষ্ট সহ্য করে ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করেই তারা রওনা দিয়েছেন।
টিকিট থাকা সত্ত্বেও অনেক যাত্রী ট্রেনের ভেতরে জায়গা পাচ্ছেন না।অতিরিক্ত ভিড় ও গুমোট গরমে দম বন্ধ হয়ে আসায় কিছুটা স্বস্তির আশায় ছাদে উঠছেন যাত্রীরা।আব্দুর রহমান নামের এক যাত্রী বলেন, ভেতরে দাঁড়ানোর জায়গা নেই, গরমে অসহ্য অবস্থা—তাই বাধ্য হয়েই ছাদে উঠে কিছুটা বাতাস নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
দিনাজপুর রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট এবিএম জিয়াউর রহমান জানান, দীর্ঘ ছুটি থাকলেও অনেকেই শেষ মুহূর্তে ফেরার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।অতিরিক্ত বগি সংযোজন করেও ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে উঠছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দিন শেষে এসব মানুষ জীবিকার তাগিদে নিজের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বেছে নিচ্ছেন।তপ্ত ছাদের ওপর ঝুলে থাকা এই যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোই এখন সবার প্রত্যাশা।
IPCS News : Dhaka : আব্দুস সালাম, দিনাজপুর।