
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ছাত্ররা করলেও তার সুফল ভোগ করছে নানা রাজনৈতিক দল– এমন মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, গণঅভ্যুত্থানে ছাত্রদের অবদান সবচেয়ে বড় থাকলেও বারবার তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল আমিন, যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সরকার।
সংস্কার পরিষদের শপথ ইস্যু নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্ধারিত দিনে শপথ গ্রহণ না করে সংশ্লিষ্টরা গণভোট ও জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। একই দিনে শপথ গ্রহণের যে জনাদেশ ছিল, তা অমান্য করা হয়েছে। যদি সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না হয়, তবে জাতীয় সংসদেরও কোনো মূল্য থাকে না। কারণ জনগণ শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, বরং স্বৈরাচারী কাঠামোর পতন ও সংস্কারের জন্যই ভোট দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার বিচার, সংস্কার ও অর্থনৈতিক লুটপাটের প্রশ্নে জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে অপসারণের ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণখেলাপিদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। সংসদে কথা বলার পরিবেশ না থাকলে আন্দোলন রাজপথে গড়াবে এবং সেজন্য প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।