
আমাদের মাঝে কেউ জন্মায় শুধু নিজের জন্য, আবার কেউ জন্মায় সমাজকে আলোকিত করার জন্য ও মানুষের কল্যাণে। তেমনি নারায়ণগঞ্জ শহর জুড়ে সকলের নিকট সুপরিচিত ও বহুমাত্রিক প্রতিভার একজন ব্যক্তি মো. মামুন হোসেন। মো: মামুন হোসেন একাধারে কবি, সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক,সংগঠক এবং কলামিস্ট। তার ক্ষুরধার লেখনী আর সাহসিকতা তাকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। তিনি সাপ্তাহিক মুক্ত আওয়াজ, দৈনিক রুদ্রবার্তা ও রুদ্রকণ্ঠের মতো জনপ্রিয় পত্রিকায় গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তার রয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আকাশচুম্বী। তবে সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে তিনি একজন মানবিক মানুষ। আর্তমানবতার সেবায় তিনি সর্বদা বিলিয়ে দেন নিজেকে। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তার সহযোগিতার হাত সবসময়ই প্রসারিত। তার এই উদারতা ও সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা। তিনি অর্জন করেছেন ২০১৭ সালে ‘সিএনএম নজরুল পদক’ ও ‘মানবাধিকার পদক’।২০২০ সালে ‘মুজিবশতবর্ষ আনন্দধাম সাহিত্য সম্মাননা’। ২০২৫ সালে ‘প্রোগ্রেসিভ জার্নালিস্ট সমাজসেবা সম্মাননা’। শিক্ষাজীবন থেকেই নেতৃত্ব তার রক্তে মিশে আছে। পূর্ব মসিনাবন্দ ছাত্রকল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে শুরু করে কলকণ্ঠ সাহিত্য ফোরাম, শব্দশৈলী সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ কিংবা নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাবÑ প্রতিটি সংগঠনে তিনি রেখেছেন দক্ষতা ও যোগ্যতার ছাপ। বর্তমানে তিনি ধ্রুব সাহিত্য পরিষদ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সাহিত্য ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হিসেবে পাশে থেকে নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জের গোগনগর (বাড়ির টেক) এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে লেখক মোঃ মামুন হোসেন এর বেড়ে ওঠা।পারিবারিক ভাবে তিন ভাই, তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান মামুন হোসেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন মেধার স্বাক্ষর রাখা এক লড়াকু সৈনিক। শিক্ষার প্রতি তার ছিল আজন্ম তৃষ্ণা। সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে তিনি নারায়ণগঞ্জ কলেজ থেকে বিএ এবং পরবর্তীতে সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন । এই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই তার পরবর্তী জীবনের বিশাল ক্যানভাস তৈরির মূল ভিত্তি। ইতোমধ্যে তিনি ২০০টি প্রবন্ধ ও কয়েক শতাধিক কবিতা রচনা করেছে। যার মধ্যে দেড়শ’রও অধিক প্রবন্ধ ও ৭০টিরও বেশি কবিতা জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৬ এ প্রকাশিত হলো তার রচিত প্রবন্ধ “জীবনের বর্ণিল ক্যানভাস”। বইটি প্রকাশিত হয়েছে উচ্ছাস প্রকাশনী থেকে। তার এই প্রকাশিত বইটি সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলে লেখক মোঃ মামুন হোসেন বলেন, একটি বই মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস, অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। বই শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের মনের দিগন্ত প্রসারিত করে, নতুন ভাবনার জন্ম দেয় এবং বাস্তবতাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। একটি ভালো বই মানুষকে নিজের ভেতরকে চিনতে শেখায়, অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং জীবনকে অর্থবহ করে তোলে। প্রকৃত শিক্ষা সেই যা মানুষের চরিত্র গঠন করে। শুধু তথ্য জানা বা পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়, বরং শিক্ষা মানুষকে সহনশীল, উদার ও মানবিক করে তোলে। এটি মানুষকে ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়, অন্যের কষ্ট বুঝতে সাহায্য করে এবং সমাজে ন্যায় ও সমতার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করে। অতএব, বই এবং প্রকৃত শিক্ষা একসাথে মানুষকে আলোকিত, সচেতন ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে, যা একটি সুন্দর সমাজ নির্মাণের ভিত্তি। আমার এই বইটি পড়লে একজন পাঠক দেশের কথা,সমাজ ব্যবস্থা ও মানবিক অনেক কিছু জানতে পারবেন এবং সেই সাথে চলমান অনেক ঘটনাবলীর তথ্য। একজন দক্ষ সংগঠক, তুখোড় বক্তা আর স্বপ্নবাজ লেখক মোঃ মামুন হোসেন। এই মানুষটি নারায়ণগঞ্জের গর্ব। কর্ম আর সৃষ্টির মাঝে মো. মামুন হোসেন বেঁচে থাকুক যুগ যুগান্তর। তার এই পথচলা হোক আরও মসৃন এবং জীবন হোক সাফল্যমণ্ডিত।