
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ইমামদের নিয়োগ বিধিমালা ও বেতন কাঠামো ঠিক করবে সরকার। ইমামদের হাদিয়া এমন হওয়া উচিত যে পরিমাণ অর্থে তাদের পরিবারের ৪-৬ সদস্যের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগেই এই বিষয়টি বলেছিলেন। আমরা এই লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাব। আমরা চাই আগামী দিনে একটা রাষ্ট্র-স্বীকৃতি বিধিমালা যার আলোকে ইমাম নিয়োগ ও অপসারণ হবে, কোনো ব্যক্তির খেয়াল-খুশিতে ইমামদের অপসারণ করা হবে না।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত ইমামদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিসিক প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার, সিলেট জেলা পরিষদ প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী ইমামদের সমাজের তাজ মনে করেন উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের প্রতি তার (তারেক রহমান) এবং আমাদের সবার যে সম্মান, সেই সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে আজ সামান্য হাদিয়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের মাধ্যমে আপনাদের হাতে তুলে দিচ্ছি। স্থানীয় তদারকি কমিটিতে ইমামদের রাখা হবে, যতগুলো উন্নয়ন কাজ হবে তাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিলেট সিটি করপোরেশনে আগামী দিনে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। সিটিতে এমন একজন ব্যক্তিকে প্রশাসক করা হয়েছে যার ওপর প্রধানমন্ত্রী আস্থাশীল। সিটির উন্নয়ন তরান্বিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সড়কগুলো এ গ্রেডে উন্নীত করা হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের চম্পাতলী খাল পুনঃখননের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৫০০ বিঘা জমি নতুন করে চাষের আওতায় আসবে। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। ফলে বর্ধিত ফসল উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং বৃক্ষরোপণের সুফল এ অঞ্চলের মানুষ প্রথম বছর থেকেই পেতে শুরু করবে। সিলেট মূলত ফসলি এলাকা। শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধার অভাব এবং কিছু কৃষিজমি পানিতে ডুবে থাকার কারণে কৃষকেরা বাড়তি ফসল উৎপাদন করতে পারেন না, এ খাল খননের মাধ্যমে এই দুই সমস্যারই সমাধান হবে।
খুচরা ও পাইকারি বাজারে মূল্য পার্থক্য নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে দামের কিছু তারতম্য স্বাভাবিক। তবে এ পার্থক্য যেন অগ্রহণযোগ্য পর্যায়ে না যায়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের দামে অগ্রহণযোগ্য ব্যবধান চিহ্নিত করতে ঈদের পর ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে। ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটির মাধ্যমে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করা হবে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। উন্নত দেশগুলোও এর বাইরে নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি, তাই এটি একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা।