
ফ্যাসিবাদকে সরাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা তুলে ধরে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, আমরা শুধু ছাত্র জনতার কথা বলি, কিন্তু ১ লাখ মামলা, হামলা, খুন ও গুম সহ্য করেও বিএনপি কর্মীরা পিছু হটেনি। আওয়ামী লীগের মতো পালিয়েও যায়নি, রাজপথ ছাড়েনি। ৫ আগস্ট যে বিস্ফোরণ হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপট রচনা করেছে বিএনপি। আর নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মান্ধ নয়। যারা ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করতে চায়, বিএনপি সেই রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।
রোববার (৯ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নয়াপল্টনে এতিম ও অসহায় এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোরআন ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
একই অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ১৭ নয়, ১৯ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার বিএনপি কর্মীরা। তবু বিএনপির উদারতাকে অনেকে ভুল বুঝে, অনেকে ভাবে তারা যা বলবে বিএনপি তাই মেনে নেবে। ধর্মের নামে যারা আজকে হাদিয়া সংগ্রহ করছে, তাদের তালাক দেয়ার সময় এসেছে, বিচ্ছেদ করার সময় এসেছে।
এর আগে দুপুরে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনের ঘোড়াশাল ঘোড়া চত্বরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালি উদ্বোধনকালে মঈন খান বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং জনগণ বিএনপিকে ভোট দেয়, তাহলে দলটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকারভিত্তিক এক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ে তুলবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব এবং তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব।’
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ দুইটি লক্ষ্য নিয়ে জীবন দিয়েছিলেন—গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দরিদ্র মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ বাকশাল কায়েম করে দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করে। তখন দেশের মানুষ বিদ্রোহ করেছিল এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিল। ৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৭ নভেম্বর সেই ঐতিহাসিক ভূমিকার স্মরণে আমরা এই র্যালির আয়োজন করেছি। আমরা বিশ্বের সামনে দেখিয়ে দিতে চাই—বাংলাদেশের মানুষ অন্যায়, দমননীতি ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে।