
অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেছেন, তিনি চার দশক ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী ছাত্র মাদরাসা থেকে পাস করা এবং তারা তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখছেন। ধর্মীয় শিক্ষা এবং পোশাকের কারণে গত ১৬ বছরে অনেক মাদরাসা ছাত্রকে নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। জঙ্গি তকমা দিয়ে তাদের ওপর বর্বরতা চালানো হয়। তবে এখন সব সত্য উদঘাটিত হয়েছে; মাদরাসা ছাত্ররা জঙ্গি নয়। শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল এবং সেই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু জাতির কাছে আজ সব স্পষ্ট।
বুধবার (১ অক্টোবর) ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া ২৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা আলিয়ার অধ্যক্ষ ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ.ফ.ম. খালিদ হোসেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদরাসা কারিগরি বিভাগের সচিব রফিকুল ইসলাম, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মিয়া মোহাম্মদ নুরুল হক।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, সারাদেশে মাদরাসাগুলোতে লাখ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটা অন্যতম ব্যবস্থা হচ্ছে, মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ধর্ম শিক্ষা প্রতি প্রাধান্য দিতে হবে। পাশাপাশি বাস্তব ও বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানও সমানভাবে অর্জন করতে হবে। মাদরাসা শিক্ষার ঐতিহ্য ধরে রাখতে ইংরেজি ও গণিতের পাশাপাশি আরবি শিক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর বকশিবাজারে সরকারি আলিয়া মাদরাসার মাঠ কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আলিয়া মাদরাসার মাঠটি গত সরকারের আমলে দখল করা হয়। তখন সেখানে একটি বিশেষ আদালত গঠন করা হয়েছিল। যে প্রক্রিয়ায় আদালত ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, সেই অবৈধ স্থাপনা অপসারণের প্রক্রিয়া চলমান। ঢাকা আলিয়াসহ দেশের তিনটি আলিয়া মাদরাসার উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা আলিয়ার শিক্ষক স্বল্পতা পূরণ এবং ছাত্রদের আবাসিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।