
আপডেটঃ ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ২৬, ২০২৫
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনের মনোনীত প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে তার বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে জামায়াত তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাকে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) জামায়াতে ইসলামের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নোটিশটি প্রকাশ করা হয়।
গত শনিবার (২২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন হলে দলের ‘নির্বাচনি দায়িত্বশীল সম্মেলন’-এ অংশ নিয়ে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে জয় পেতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তার বক্তব্যে বলা হয়, “যার যার এলাকায় প্রশাসনের সবাইকে আমাদের আন্ডারে আনতে হবে। গ্রেফতার, মামলা সবই আমাদের কথায় হতে হবে।”তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশকে স্থানীয় প্রার্থীর নির্দেশ মেনে চলতে হবে এবং ওসিকে সকালবেলায় প্রার্থীর কর্মসূচি জেনে প্রটোকল দেওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে। এ ছাড়া প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনি প্রচার চালানোর নির্দেশও দেন তিনি।তার এই বক্তব্য প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নির্বাচনি আচরণবিধি এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে এমন মন্তব্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।
বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম জোনের প্রধান মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দলের অবস্থান থেকে শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্যকে সমর্থন করা হচ্ছে না। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে।নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত পরিবেশের মধ্যে এমন মন্তব্য প্রশাসনের স্বাধীনতা ও নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের মত। এখন নজর থাকবে শাহজাহান চৌধুরীর জবাবে এবং দলের পরবর্তী পদক্ষেপে।
IPCS News : Dhaka :