• সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
বেলাবোতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আরএমপি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় ৭৫টি হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেলেন প্রকৃত মালিকরা – IPCSBDPress বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট স্বাধীন, আইন সংশোধন এ সরকারের মেয়াদে বাস্তবসম্মত নয় বাসস এমডির পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম ডিআরইউ’র বিকাশ-নগদ-রকেটে ১০০০-এর বেশি লেনদেন করা যাবে না, দিনে লেনদেন ১০ বার ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি আর চলবে না: আমির খসরু সাদা নয়, রঙিন ফুলকপিই বেশি স্বাস্থ্যকর নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজশাহীতে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ – IPCSBDPress বাংলাদেশের বিচারের ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন আজ: চীফ প্রসিকিউটর একটি দল বলছে ১২ তারিখ পর্যন্ত চাঁদাবাজি করা যাবে না, মানে পরে শুরু হবে: আসিফ মাহমুদ

বাংলাদেশি সব সাংবাদিকের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করলো আইসিসি

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন


ভারতে গিয়ে খেলতে না চাওয়ায় এরই মধ্যে টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে। পরিবর্তে আইসিসি অন্তর্ভূক্ত করে নিয়েছে স্কটল্যান্ডকে। নতুন খবর হচ্ছে, টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি আইসিসি, এবার গণমাধ্যমের ওপরও আঘাত হানা হয়েছে।

টি-২০ বিশ্বকাপ কাভার করতে বাংলাদেশ থেকে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের জন্য যে সকল সাংবাদিক আবেদন করেছিল আইসিসিতে, সবার আবেদনই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে। অর্থ্যাৎ, এবার বাংলাদেশ থেকে কোনো সাংবাদিকই যেতে পারছে না টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য।

মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের রাজনীতি আর আইসিসির একগুঁয়েমি এখন তুঙ্গে। যেখানে নিরাপত্তা আর মর্যাদার প্রশ্নে উত্তাল বাংলাদেশ ক্রিকেট অঙ্গন।

পূর্বতন সূচি অনুসারে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ ছিল কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ ছিল মুম্বাইয়ে। বাংলাদেমের ম্যাচসহ পুরো বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য আইসিসি নির্ধারিত ফর্ম ও বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা। বাংলাদেশ খেলতে যাক কিংবা না যাক, বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংবাদিকের ভারত এবং শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল।

১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ সর্বপ্রথম বিশ্বকাপ খেলার সময় থেকে শুরু প্রতিটি আসরেই (ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি) উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতি ছিল। শুধু তাই নয়, ১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগেও, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের উপস্থিতি ছিল না, তখনও অনেকগুলো বিশ্বকাপ আসর কাভার করার অভিজ্ঞতা ছিল বাংলাদেশের সাংবাদিকদের। ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে এদেশের মানুষের তুমুল আগ্রহ বিশ্বকাপ নিয়ে। এ কারণে প্রায় প্রতিটি মিডিয়া হাউজই বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য সাংবাদিক প্রেরণ করে থাকে।

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশ সরকার, ক্রিকেটার, সমর্থক এবং সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে একটি জোরালো দাবি ছিল— নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তারা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে আগ্রহী নয়। পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় খেলার জন্য আইসিসির কাছে বারবার অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

বারবার বাংলাদেশ সরকার এবং আইসিসির কাছে এই দাবি বা অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও ক্রিকেটের বিশ্ব সংস্থা আইসিসি তা আমলে না এনে বাংলাদেশকে প্রতিবার ভারতেই খেলার উপরে চাপ দিতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জানিয়ে দেয়, ‘আমরা ভারতে খেলবো না। শ্রীলঙ্কা ছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবো না।’ শেষপর্যন্ত বাংলাদেশকে বলা চলে বিশ্বকাপ থেকে ‘ফরফিট’ বা বাদ দেওয়া কহয়েছে। সেটা ছিল টিম বাংলাদেশের ঘটনা।

কিন্তু আজ সন্ধ্যায় ঘটলো আরেক ঘটনা। বাংলাদেশ থেকে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করতে অর্ধশতাধিক ক্রীড়া সাংবাদিক বা ক্রিকেট রিপোর্টার এক্রিডিটেশনের আবেদন করেছিলেন। তারা সবাই রিজেক্টেড হয়েছেন।

বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু বলেন, ‘এটা আমার জন্য এবং বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য অপমানের, গ্লানির এবং ক্ষোভের।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি হচ্ছি বাংলাদেশের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেট রিপোর্টার। যার ঝুলিতে সাত-সাতটা বিশ্বকাপ কাভার অভিজ্ঞতা রয়েছে, দেশে এবং দেশের বাইরে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছি। আমি বিস্মিত ও হতভম্ব যে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ভারতে গিয়ে খেলতে চায় না, শ্রীলঙ্কায় খেলতে চায়। তাই বলে, বাংলাদেশের রিপোর্টাররা কেন এক্রিডিটেশন কার্ড পাবে না? তাদের ম্যাচ পেতে সমস্যা হবে?’

‘আমরা জানি, বিশ্বকাপে এক্রিডিটেশন কার্ডই শেষ কথা নয়। ম্যাচ কার্ডও পেতে হয়। সেই ম্যাচ কার্ড পেতে যদি সমস্যা হতো, আমি কিছু বলতাম না। কিন্তু সন্ধ্যা নাগাদ জানা গেলো, বাংলাদেশের যত অ্যাপ্লিকেন্ট ছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করার জন্য— সব সাংবাদিকের অপ্লিকেশন বাতিল করা হয়েছে। এটা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি।’

‘বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললেও, এখানকার সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভার করার অধিকার আছে। সেটা ন্যায্য অধিকার। বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট তো এবার শুধু ভারতে হবে না, শ্রীলঙ্কায়ও হচ্ছে। বাংলাদেশের রিপোর্টাররা ভারতে গিয়ে না করলেও শ্রীলঙ্কায় গিয়েও তো খেলা কাভার করতে পারতেন। কাজেই আইসিসির এমন ন্যাক্কারজনক আচরণ আমি একজন সিনিয়র মোস্ট জার্নালিস্ট হিসেবে ধিক্কার জানাই এবং এতে আমি বিস্মিত।’

‘বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট’স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) বর্তমান সভাপতি হিসেবে আমি সবশেষে বলতে চাই— বাংলাদেশের অপর দুই ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা বিএসপিএ এবং স্পোর্টস জার্নালিস্ট এন্ড রাইটার্স কমিউনিটির (বিএসজেসি) নেতৃবৃন্দর সঙ্গে কথা বলে অবশ্যই আমাদের একটা প্রতিবাদলিপি দেয়া উচিত।’

‘যদিও আমাদেরকে যে মেইল পাঠানো হয়েছে রিজেক্ট করে, সেখানে পরিষ্কার উল্লেখ করা আছে যে, কোনো ফিরতি মেইল দেওয়া যাবে না। এখন বাংলাদেশের তিন অ্যাসোসিয়েশন মিলে সেটা বিসিবি কিংবা তথ্যমন্ত্রণালমের মাধ্যমে- যেভাবেই হোক আইসিসির কাছে একটা প্রতিবাদলিপি পাঠানো উচিত। রীতিমত কারণ জানতে চেয়ে যে, কেন আমাদেরকে সবাইকে রিজেক্ট করা হলো?’

‘আমি মনে করি, এটা একপেশে এক ধরণের ঘৃণ্য মানসিকতা। তার মানে ধরে নিতে হবে, বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে চায়নি বলেই এ দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভার করার সুযোগ থেকে আইসিসি বঞ্চিত করল। নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। আমি মনে করি, এর একটা বিহিত বা একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসির জানানো উচিত। আমরা যা শঙ্কা প্রকাশ করছিলাম, ক্রিকেট দলের পাশাপাশি বাংলাদেশের মিডিয়াকেও আগামীতে যাঁতাকলে পিষ্ট করতে চায় আইসিসি? সে প্রশ্নই বারবার মনে হচ্ছে আমার।’

এই খবরটি আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts