• শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন |
  • English Version

জীবন বাঁচাতে দেশত্যাগ, দেশে থাকলে মব করে মেরে ফেলার হুমকিতে ছিলেন শিমুল মিয়া।

Reporter Name / ২৩৩ Time View
Update : শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শিমুল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি মনোহরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন।
সরকার পতনের পর থেকেই শিমুল মিয়ার জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ অন্ধকার। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে একের পর এক হত্যার হুমকি, ভয়ভীতি ও অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তার জীবন হয়ে ওঠে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু তিনি নন, তার পরিবারের সদস্যরাও ভয়াবহ নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে।
শিমুল মিয়ার পরিবারের ওপর চালানো হয় নানা ধরনের নির্যাতন। বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়, পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানো হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, দেশে অবস্থান করলে তাকে মব করে হত্যা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রবল হয়ে ওঠে।
নিজের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে চরম ঝুঁকি নিয়ে শিমুল মিয়া লিবিয়া হয়ে অবৈধ পথে ইতালিতে পাড়ি জমান। এই বিপজ্জনক যাত্রাপথে তিনি মানবপাচারকারীদের (মাফিয়া) অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। পুরো যাত্রাজুড়ে তার জীবনের কোনো নিরাপত্তা ছিল না।
শিমুল মিয়ার শ্বশুরবাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিজ বাড়িতে থাকতে পারছে না। তারাও বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণনাশের হুমকিতে পড়ে বাধ্য হয়ে গাইবান্ধায় আশ্রয় নেয়।
বর্তমানে শিমুল মিয়ার ছেলে-মেয়ে কেউই নিজ বাড়িতে বসবাস করতে পারছে না। পরিবারটি চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের প্রতিটি দিন কাটছে আতঙ্কে।
জানা গেছে, শিমুল মিয়া কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এমপি এবং তার সুযোগ্য উত্তরসূরি মাঞ্জুরুল মজিদ সাদী সাহেবের একজন বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts