
গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যতদ্রুত আমরা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব, ততই আমাদের মঙ্গল হবে। তার মধ্য দিয়ে আমরা সেই যাত্রাটা শুরু করতে পারব। আমি হতাশার কিছু দেখি না।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর কুর্মিটোলা রেডিসন ব্লু লহরি হলে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ আয়োজিত ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬: জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের জন্য প্রাণ দিলেও চর্চা করার সুযোগ হয়নি। বারবার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি গণতান্ত্রিক শক্তি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে বাকশাল করেছিল। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার সুযোগ এসেছে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে। আর গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার জন্য নির্বাচনই একমাত্র বিকল্প।
সংস্কারের উদ্যোগ বিএনপিই নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা দিয়েছে বিএনপি। সংস্কারের সব উদ্যোগ বিএনপি শুরু করেছে। ভিন্নমত থাকবেই। সবাই একমত হবে না। আজকে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য নিয়েও ভিন্নমত থাকতে পারে। তবে, ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচন দিয়ে পার্লামেন্ট গঠন করা হবে, যারা সব বিষয়ে মীমাংসা করবে।
পিআর চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়, উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, পিআর সাধারণ মানুষ কিচ্ছু বোঝে না। চাপিয়ে দেয়ার আগে জনগণকে তৈরি করে নিতে হবে। তাদেরকে বোঝাতে হবে। ফ্যাসিস্টবিরোধীদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।
জাতির উদ্দেশে দেয়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে প্রধান উপদেষ্টা যে বক্তব্য দিয়েছেন, এটা নি:সন্দেহে আপনারা অনেকেই মনে করবেন যে-সকালের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা বক্তব্যে দিয়েছেন। কিন্তু এরমধ্যে তো দ্বিমত থাকতে পারে, আপনার অন্যমত থাকতে পারে। মূল কথা আমরা যেটা বলি- অতিদ্রুত, যেটা ইতিমধ্যে ঘোষণা হয়ে গেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটা নির্বাচন দিন।