
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে যেই যুগপৎ আন্দোলন হচ্ছে, সেটাতে আমরা নাই। কারণ, নিম্নকক্ষে আমরা পিআর চাই না। নিম্নকক্ষে পিআরের বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিয়েছি। আমরা শুধু উচ্চকক্ষে পিআর এবং জবাবদিহির জন্য একটি কার্যকর উচ্চকক্ষ চাচ্ছি। সেটাকে নিশ্চিত করে যাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হয়। ফলে এই মুহূর্তেই আমরা কোনো বড় দলের সঙ্গে জোটভিত্তিক চিন্তাভাবনা করছি না। বরং জাতীয় নাগরিক পার্টি তার স্বতন্ত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এগোবে এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে দিনব্যাপীদলের সমন্বয় সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা আখতার হোসেন, সামান্তা শারমীন, সারজিস আলম প্রমুখ। দিনব্যাপী সমন্বয় সভায় ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা কমিটির সমন্বয়কারীরা।
সভা শেষে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশের অন্যতম একটি সমস্যা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে দুর্নীতি দূর হবে। কিন্তু সরকারের দিন যত পার হয়েছে, দুর্নীতি আরও জেঁকে বসেছে। ফলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টি যাতে সামাজিক প্রতিরোধ, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলে প্রত্যেকটা এলাকায়, প্রত্যেকটা ইউনিয়ন ও উপজেলায়। যেই দুর্নীতি নতুন করে শুরু হয়েছে, সেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা যেন মানুষকে সচেতন করে এবং ঐক্যবদ্ধ করে। দুর্নীতি এবং মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলমান থাকবে।
দলের কর্মসূচি সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার জন্য, নতুন সংবিধানের জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টি আগামী দিনে যে কর্মসূচি দেবে, আমরা জুলাই পদযাত্রায় যেমন জেলাভিত্তিক কর্মসূচি নিয়েছিলাম, এবার আমরা উপজেলাভিত্তিক কর্মসূচি নেব। জাতীয় নাগরিক পার্টির ২৪ দফা রয়েছে, তা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে আমরা আবারও যাব। অক্টোবরের মধ্যে আমাদের সাংগঠনিক কমিটি হবে। অক্টোবরের মধ্যে আমরা প্রতিটি উপজেলায় পৌঁছাব।
নাহিদ ইসলাম জানান, সমন্বয় সভায় জাতীয় নির্বাচন ও গণপরিষদ নির্বাচনের জন্য দলের সবাইকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আমরা জাতীয় নির্বাচন এবং গণপরিষদ নির্বাচনের জন্য সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুতি নিতে বলেছি। দ্বিতীয়ত, আমরা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম, ফ্যাসিবাদী দোসর এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বলেছি। আমাদের সাংগঠনিক বিস্তার যাতে আগামী এক মাসের মধ্যে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যন্ত চলে যায়, সে জন্য আমরা দিকনির্দেশনা দিয়েছি।