• শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন |
  • English Version

“এক বিস্ফোরণ কেড়ে নিল পুরো পরিবার”

Reporter Name / ৪ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন


নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়ার পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন সায়মা বেগমও (৩২)। শুক্রবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে একে একে নিভে গেল একটি পরিবারের পাঁচটি প্রাণ।

জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গত রোববার (১০ মে) ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও কাউকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

গত রোববার সকালে গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই আগুনে ঝলসে যায় পুরো বাসা। ঘুমন্ত অবস্থায় দগ্ধ হন পরিবারের কর্তা মো. কালাম (৩৫), তার স্ত্রী সায়মা বেগম এবং তাদের তিন শিশু সন্তান মুন্না (৭), কথা (৭) ও মুন্নি (১০)।

স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। চারদিকে ধোঁয়া আর মানুষের আর্তচিৎকার ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা ছুটে গিয়ে আগুনের মধ্যে থেকে দগ্ধ পরিবারটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের দ্রুত রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

কিন্তু জীবনযুদ্ধের সেই লড়াই বেশিক্ষণ টিকলো না। ঘটনার পরদিন সকালেই মারা যান পরিবারের কর্তা কালাম। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এরপর একে একে নিভে যায় তিন নিষ্পাপ শিশুর জীবনপ্রদীপ। সর্বশেষ মারা গেলেন মা সায়মা বেগম। একটি হাসিখুশি পরিবার কয়েক দিনের ব্যবধানে পরিণত হলো শুধুই স্মৃতিতে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় ফতুল্লাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজন হারানোর বেদনায় স্তব্ধ প্রতিবেশীরাও। অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। স্থানীয়দের ভাষ্য, “সকালে যাদের হাসির শব্দ শুনতাম, আজ সেই বাসা নিঃশব্দ। এক বিস্ফোরণ পুরো পরিবারটাই কেড়ে নিল।”

ঘটনার পর হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।

এদিকে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ তদারকি ও সচেতনতা থাকলে হয়তো একটি পরিবারকে এভাবে আগুনে পুড়ে নিঃশেষ হতে হতো না।




আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts