
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় মাদকসহ আটক চার ব্যক্তিকে মাদক আইনে মামলা না দিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত বুধবার রাতে উপজেলার চালাকচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মেহেদী হাসান। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে আটককৃতদের ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হলে তারা মুচলেকা দিয়ে জামিনে মুক্তি পান।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মানিকপুর গ্রামের মৃত মোতালিব মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩০), কাদির মিয়ার ছেলে কালাম (২৮), আব্দুর রহিমের ছেলে সুন্দর আলী (২৫) এবং শামসুল হকের ছেলে শরীফ মিয়া (১৮)। স্থানীয়দের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এক ইউপি সদস্য সোহরাব হোসেনের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করা হয়। এর ফলে মাদক আইনে মামলা না দিয়ে তাদের ৩৪ ধারায় আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যেও দেখা গেছে অসঙ্গতি। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, মাদকের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হলেও পরবর্তীতে তাদের কাছে কিছু পাওয়া যায়নি। তবে পূর্বের রেকর্ড বিবেচনায় তাদের ৩৪ ধারায় পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, এএসআই মেহেদী হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের সময় তাদের আটক করা হয় এবং এ সময় কিছু মাদকও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাদকসহ আটকের পরও কেন মাদক আইনে মামলা না দিয়ে ৩৪ ধারায় পাঠানো হলো—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন জানান, আটক চারজনকে ৩৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি সত্যিই মাদক উদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে কেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হলো না? বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।