
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের যাত্রা শুরু হবে। আমরা আশা করছি সরকারি দল শপথ নিতে সম্মত হবে এবং যে পুরোনো রাষ্ট্রপতি, সেই রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন শুরু করা হবে, উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বুধবার (১১ মার্চ) রংপুর জেলা স্টেডিয়াম মাঠে এনসিপির রংপুর বিভাগীয় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাহফিলে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, এনসিপির রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ উন নবী প্রমুখ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামীকাল ১২ মার্চ সারা বাংলাদেশের মানুষ, পুরো বিশ্ববাসী অপেক্ষা করে আছে নতুন সংসদ অধিবেশনের জন্য। হাজারো মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন, গণভোট এবং এই নতুন সরকার এবং নতুন সংসদ গঠিত হয়েছে। ফলে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে—শুধু প্রত্যাশা নয়, আমাদের দাবি এবং আমরা অবশ্যই সেটা আদায় করে ছাড়ব, সেটা হচ্ছে সংস্কারের দাবি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবি, উচ্চকক্ষের দাবি এবং নতুন বাংলাদেশের দাবি।
সংস্কার কোনো দল-মতের বিষয় নয়, সংস্কার সবার জন্যই প্রযোজ্য মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়েছি দল-মত নির্বিশেষে। ফলে সেই হ্যাঁ-কে কার্যকর করা এই সংসদের অন্যতম দায়িত্ব। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য, ঋণখেলাপি মুক্ত করার জন্য, চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসকে মুক্ত করার জন্য আমরা সংসদে যাচ্ছি। আগামীকাল থেকে সংসদ কার্যকর হবে। বিরোধী দলকে কথা বলতে দেওয়া হবে। যে সব কমিটমেন্ট গণভোটে করা হয়েছে, নির্বাচনের আগে করা হয়েছে, সে সব কমিটমেন্ট জাতীয় সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল সবাই মিলে পালন করবে। আমরা সেই আশা ব্যক্ত করছি।
সারা দেশে নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন, বিভিন্ন জায়গায় শিশু হত্যা হচ্ছে, নারীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। আমরা উপযুক্ত বিচার চাই। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকেই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ এবং স্বৈরতন্ত্রের উদ্ভব ঘটেছিল। আমরা চাই এবার বাংলাদেশে বিচার নিশ্চিত করা হবে। যে সব জায়গায় মা-বোনদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, সে সব জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিবে।