• সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
ক্ষমতাসীনদের তুষ্ট রাখতেই সব সময় ব্যস্ত থাকে দেশের প্রশাসন: আখতার ট্রাম্পকে ইরানে নয়, নিজ দেশে নজর দিতে বলছেন উপদেষ্টারা ইইউর বাজারে একাধিক প্রধান প্রতিযোগীর তুলনায় ভালো করছে বাংলাদেশ গাজার পক্ষে বিস্ফোরক প্রতিবাদ, পুরস্কার ফিরিয়ে দিলেন নির্মাতা চাঁদাবাজি ঠেকাতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর বার্তা আইজিপির ভাষা শহীদদের প্রতি তিন বাহিনীর প্রধানদের শ্রদ্ধা ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা নয়াদিল্লির গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শপথের প্রয়োজন নেই, হ্যাঁ অটোমেটিক কার্যকর হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী গাজায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীতে সেনা পাঠাচ্ছে ৫ দেশ

ট্রাম্পকে ইরানে নয়, নিজ দেশে নজর দিতে বলছেন উপদেষ্টারা

Reporter Name / ২ Time View
Update : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন


যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে টেনে নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার উপদেষ্টা এবং রাজনৈতিক সহযোগীরা সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশে যুদ্ধের চেয়ে নিজ দেশের অর্থনৈতিক উদ্বেগ এবং ভোটারদের সমস্যার দিকে তার বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত। বিশেষ করে চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সামরিক উত্তেজনা দলের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ

দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৩ মাসে ট্রাম্পের এজেন্ডায় অভ্যন্তরীণ ইস্যুর চেয়ে পররাষ্ট্রনীতি এবং সামরিক শক্তির ব্যবহারই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক বহর পাঠিয়েছেন এবং ইরানের ওপর কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। অথচ জনমত জরিপ বলছে, সাধারণ মার্কিনিদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

হোয়াইট হাউজের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাব থাকলেও প্রশাসনের ভেতরে ইরান আক্রমণের বিষয়ে কোনো ‘একীভূত সমর্থন’ নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত ভোটারদের কাছে আমরা কোনো বিভ্রান্তিকর বার্তা পাঠাতে চাই না।’

রিপাবলিকান শিবিরে দুশ্চিন্তা

চলতি সপ্তাহের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে হোয়াইট হাউজের উপদেষ্টা ও রিপাবলিকান প্রচারণা কর্মকর্তারা একমত হয়েছেন যে, ট্রাম্পকে এখন অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। কোনো একটি কক্ষও যদি ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যায়, তবে ট্রাম্পের বাকি শাসনকাল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

রিপাবলিকান কৌশলী রব গডফ্রে মনে করিয়ে দেন যে, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মূল ভিত্তিই ছিল ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ বন্ধ করা। এখন ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত তার প্রধান সমর্থকদের ক্ষুব্ধ করতে পারে।

ট্রাম্পের সমর্থকরা গত মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে যুদ্ধ হলে প্রতিরোধ আরও কঠোর হবে। ফলে ভেনেজুয়েলার মতো দ্রুত জয় এখানে সম্ভব না-ও হতে পারে।

ট্রাম্পের অস্পষ্ট লক্ষ্য

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০০৩ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ যখন ইরাক আক্রমণ করেছিলেন, তখন তার লক্ষ্য স্পষ্ট ছিল (গণবিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস)। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের উদ্দেশ্য অস্পষ্ট। তিনি কখনো বলছেন পারমাণবিক চুক্তি, কখনো বলছেন ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসন পরিবর্তন। কিন্তু বিমান হামলা চালিয়ে কীভাবে শাসন পরিবর্তন সম্ভব, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা হোয়াইট হাউজ দিতে পারেনি।

রিপাবলিকানরা বর্তমানে করছাড়, আবাসন ব্যয় কমানো এবং ওষুধের দাম কমানোর মতো বিষয়গুলোকে প্রচারণায় আনতে চাইছেন। কিন্তু ট্রাম্পের ‘ইরান মোহ’ সেই প্রচারণাকে আড়াল করে দিচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

এই খবরটি আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts