
মনোহরদীতে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত।
মো হিমেল মিয়া।
মনোহরদী নরসিংদী।
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি, সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টায় মনোহরদী উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম. এ. মুহাইমিন আল জিহান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়া, মনোহরদী থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর বাদশা, মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, মনোহরদী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সরকার বাদল, মনোহরদী প্রেস ক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
সভায় চলমান বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে বন্যা, জলাবদ্ধতা, বজ্রপাত, নদীভাঙনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, ত্রাণ সামগ্রী মজুত, জরুরি সেবাদান, উদ্ধার কার্যক্রম, ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এ. মুহাইমিন আল জিহান বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুত থাকাই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। সকল দপ্তরকে আন্তরিকতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত উদ্যোগ দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়া বলেন, “দুর্যোগকালীন সময়ে সরকারি সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সকলকে সতর্ক ও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং জনগণকে সচেতন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি ইউনিয়নে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।”
সভার শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয় এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়