• শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন |
  • English Version

নাসিকের উদ্যোগে পরিষ্কার হচ্ছে দূষণে বিপর্যস্ত দেওভোগের ঐতিহ্যবাহী ‘জিউস পুকুর’

Reporter Name / ৫৯ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন

[ad_1]

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী ‘জিউস পুকুর’ রক্ষায় অবশেষে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)। দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা, কচুরিপানা আর অবহেলায় পরিত্যক্ত প্রায় এই পুকুরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু হয়েছে। নাসিকের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ভুলে স্বস্তি ও আনন্দের হাওয়া বইছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে।

 

দূষণে বিপর্যস্ত ছিল দেওভোগের ফুসফুস

স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জিউস পুকুরটি কেবল একটি সাধারণ জলাশয় নয়, এটি দেওভোগের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে দীর্ঘদিন ধরে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় পুকুরের পানি পুরোপুরি দূষিত হয়ে পড়েছিল। চারপাশের ময়লা-আবর্জনা ও ঘন কচুরিপানায় ঢাকা পড়েছিল পুকুরের অস্তিত্ব। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পচা পানির তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের মানুষের বসবাস করাই দায় হয়ে উঠত। মশার উপদ্রব আর পরিবেশ দূষণের কারণে এটি পুরো এলাকার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

শুক্রবার সকালে শুরু হয় কর্মযজ্ঞ

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল থেকে পুকুরটি পুনরুদ্ধারে নামেন নাসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। সকাল থেকেই পুকুরে জমে থাকা টন কে টন বর্জ্য ও প্লাস্টিক অপসারণের কাজ শুরু হয়। একই সাথে কেটে ফেলা হচ্ছে চারপাশের আগাছা ও ঘন কচুরিপানা। পানির স্বাভাবিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

পুকুর পরিষ্কারের এই দৃশ্য দেখতে সকাল থেকেই ভিড় করেন স্থানীয় উৎসুক জনতা। দেওভোগের এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা আশা হারিয়ে ফেলেছিলাম। এই পুকুরের সাথে আমাদের শৈশবের স্মৃতি জড়িত। নাসিককে ধন্যবাদ আমাদের দাবি শোনার জন্য। তবে আমাদের অনুরোধ, একবার পরিষ্কার করে যেন ফেলে রাখা না হয়, নিয়মিত যেন এর যত্ন নেওয়া হয়।”

 

রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির আশ্বাস নাসিকের

জিউস পুকুর পরিষ্কারের এই উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নূর কুতুবুল আলম বলেন:

 

“দেওভোগের ঐতিহ্যবাহী জিউস পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন ও অবহেলার কারণে ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌক্তিক দাবি ও পরিবেশগত গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা এটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।”

 

তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “শুধুমাত্র একবার পরিষ্কার করেই সিটি করপোরেশন বসে থাকবে না। ভবিষ্যতে যাতে এই ঐতিহ্যবাহী পুকুরটি আবারও কোনো ধরনের দখল বা দূষণের শিকার না হয়, সেজন্য কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে। নগরবাসীকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য পরিবেশ উপহার দিতে নাসিক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”

 

ঐতিহ্য রক্ষার ইতিবাচক বার্তা

পরিবেশবাদীরা নাসিকের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, শুধু জিউস পুকুরই নয়, নারায়ণগঞ্জের বুক থেকে হারিয়ে যাওয়া অন্যান্য জলাশয় ও পুকুরগুলোকেও এভাবে উদ্ধার করা প্রয়োজন। জিউস পুকুর পরিষ্কারের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এটি দেওভোগের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।



[ad_2]


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts