• মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০৫:৩২ অপরাহ্ন |
  • English Version
ব্রেকিং নিউজঃ
মনোহরদীতে দুবাই প্রবাসী হিট ষ্টোকে মৃত্যু। মনোহরদীতে বসন্ত বিলাস ফুড প্যারাডাইস রেস্টুরেন্টে এর বর্ষপূর্তি উদযাপন। মনোহরদীতে প্রচন্ড গরমের মধ্যেও স্কুল খোলা রেখে চলছে পাঠদান। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট এর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে প্রধান অতিথি জনাব ডা এম এইচ কবির। মনোহরদীতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত। মনোহরদীতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি মাননীয় শিল্প মন্ত্রী জনাব এডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী নাঈম আহমেদ বুলবুল। পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মনোহরদী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিল। মা হোমিও হলের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। মা হোমিও হলের পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

পাড়া মহল্লায় সারা ফেলেছে গোসত সমিতি।

Reporter Name / ৬৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০৫:৩২ অপরাহ্ন

 

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ব্যতিক্রমী ‘গোশত সমিতি’।

 

বাংলাদেশে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষেরই দু-একটি করে সমিতি রয়েছে। তারমধ্যে সমসাময়িক সময়ে লোকজনের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে মাংস বা গোশত। প্রথমদিকে এ সমিতির কথা শুনে অনেকেই অবাক হলেও বর্তমানে লোকজন এ সমিতি থেকে উপকৃত হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাড়া-মহল্লায় এর প্রচলন ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে।

 

 

সিংগাইরে গ্রাম, পাড়া বা মহল্লায় ঈদুল ফিতর সামনে রেখে এ ধরনের মাংসের সমিতি গঠন করা হয়। মাংস সমিতির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন গ্রামের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর বাড়ছে মাংস সমিতির সংখ্যা। প্রতিটি মাংস সমিতির সদস্যসংখ্যা ৩০ থেকে ১০০ জন পর্যন্ত হয়ে থাকে।

 

সমিতির অন্তর্ভুক্ত প্রতিজন সদস্য মাসে মাসে সমিতিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখেন। বছর শেষে ঈদুল ফিতরের ঈদের আগে জমাকৃত অর্থ একত্র করে পশু কেনা হয়। ঈদের দিন বা তার দু-একদিন পূর্বেই এই পশু জবাই করে গোশত সমিতির প্রত্যেক সদস্যকে ভাগ করে দেওয়া হয়। এতে ঈদ উদযাপনের ক্ষেত্রে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর আর্থিক চাপ যেমন কমে, তেমনি ঈদের আগে সবাই বাড়তি আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারেন।

 

স্থানীয়দের ভাষায় এই সমিতির নাম ‘গোশত বা মাংস সমিতি’। অনেকের কাছে ‘গরু সমিতি’ নামেও পরিচিত।

 

সারা দিন ভ্যান ও রিকশা চালিয়ে সংসারের ঘানি টানেন উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের মো. টোকন শেখ। সন্তানের লেখাপড়ার খরচ, চিকিৎসা ও খাবার খরচসহ সব মিলিয়ে তাকে অনেকটা নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থায় সংসার চালাতে হয়। ঈদ এলে সবার কাপড়-চোপড় আর তেল-সেমাই-চিনি কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাকে। এ ছাড়া আদরের সন্তানদের বায়না থাকে ঈদের দিন গোশত খাওয়ার। কিন্তু ভ্যানচালক বাবার ঈদের দিনে সন্তানদের গোশত খাওয়ানোর ইচ্ছা থাকলেও সাধ্যে কুলায় না। ইতিপূর্বে ঈদের দিন সন্তানদের বায়না পূরণ করতে না পেরে গত দুই বছর যাবৎ নয়াপাড়া ‘গোশত সমিতি’র সদস্য হয়েছেন।

 

নয়াপাড়া গোশত সমিতির মূল উদ্যোক্তা মো. সারোয়ার হোসেন জানান, সমিতিতে এবার ৬৩ জন সদস্য। প্রতিমাসে সদস্য প্রতি ২০০ টাকা করে অর্থ জমা রাখেন। বছর শেষে রোজার ঈদের পূর্বে জমানো টাকা দিয়ে গরু কিনে জাবাই করে সমিতির সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। তুলনামূলক বাজার দরের চেয়ে কম দামে এবং এক সাথে বেশি পরিমাণ গোশত পেয়ে প্রত্যেকেই খুব খুশি হয়।

 

উপজেলার ধল্লা ইউনিয়ন ছাড়াও জয়মন্টপ, জামির্ত্তা, চান্দহর, বায়রা, তালেবপুর, শায়েস্তা, চারিগ্রাম, জামশা ও সিংগাইর সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের আরও অনেক সমিতি গড়ে উঠেছে। শবেকদরের দিন থেকে শুরু হয় সমিতির পশু জবাইয়ের কাজ। চলে ঈদের দিন পর্যন্ত।

 

ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এলাকায় গোশত সমিতি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ সমিতির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গরুর মাংসের উচ্চমূল্য থাকলেও সমিতির কারণে ঈদুল ফিতরে এখন ঘরে ঘরে গরুর গোশত রান্না হয়। এ ধরনের সমিতির কারণে সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ আরও জোরদার হয়।

 

উপজেলা পরিষদ (অস্থায়ী) চেয়ারম্যান শারমিন আক্তার বলেন, সারা বছর একটু একটু সঞ্চয় ঈদের দিনে তাদের বেশ বাড়তি আনন্দ দেয়। গোশত ভাগবাটোয়ারা করা, গোশত রান্না করার মধ্যেও এক ধরনের আনন্দ পাওয়া যায়। বিশেষ করে এ ধরনের কাজে নারীদের অংশগ্রহণ সমিতিকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলেছে।

 

সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পলাশ কুমার বসু বলেন, সকল শ্রেণির লোকজনের অংশগ্রহণে এ ধরনের গোশত সমিতি সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই সঙ্গে সকলের মধ্যে ঈদের আনন্দটাও অনেক বাড়িয়ে দেয়। এটা খুবই ইতিবাচক উদ্যোগ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category