
মো হিমেল মিয়া।
মনোহরদী নরসিংদী।
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের চর আহাম্মদপুর ৭ নং ওয়ার্ডে টানা বৃষ্টিতে প্রায় শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বুলেটিনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই ২০২৬) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগে থেকে বিদ্যমান একটি ড্রেন পুনরায় খননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে আলোচনা চলছিল।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় চর আহাম্মদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের ছেলে মোঃ মনজুরুল কুদ্দুস (৫০), তার ছেলে মোঃ রাসেল মিয়া (৩০) এবং এক অজ্ঞাতনামা নারী সেখানে এসে পানিনিষ্কাশনের কাজে বাধা দেন। রাসেল মিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল বেস ওয়ার্কশপে (সিভিল) কর্মরত বলে স্থানীয়রা জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় মনোহরদী প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি, দৈনিক যায় যায় দিন ও বাংলাদেশ বুলেটিনের মনোহরদী প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ তাজুল ইসলাম বাদলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং মারধরেরও চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে অভিযুক্তরা পানিনিষ্কাশনের কাজ বন্ধ করে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছেন।
এলাকাবাসী মোঃ মানজুল হক বলেন, "আমরা সবাই মিলে পানিনিষ্কাশনের মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মনজুরুল কুদ্দুস ও তার ছেলে রাসেল এসে কাজ বন্ধ করে দেন। আমরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।"
পানিবন্দি বাসিন্দা রূপ মহল বলেন, "এখানে আগে থেকেই পানি যাওয়ার ড্রেন ছিল। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। এখন ড্রেন চালু করার উদ্যোগেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।"