[ad_1]
দেশে হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাব এবং টিকার সংকটের জন্য পূর্ববর্তী সরকারগুলোর অদূরদর্শিতা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর অন্তর হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে তা বন্ধ ছিল। এর ফলে বিশাল সংখ্যক শিশু টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে গেছে, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ। এছাড়া টিকার মজুত ও সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় পূর্ববর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে হামসহ ছয়টি জরুরি টিকার মারাত্মক সংকট তৈরি হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গত রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রথম দিনেই লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশ (প্রায় ৭৩ হাজার শিশু) শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে এই কর্মসূচি সম্প্রসারিত হবে। চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরও ২৫০টি আইসোলেশন বেড স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া আইসিডিডিআরবি-র উদ্ভাবিত মাত্র ৩০০ টাকা ব্যয়ের নতুন অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেমের মাধ্যমে ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অধিবেশনে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন সম্পূরক প্রশ্নে মাঠ পর্যায়ের অব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দকৃত বাজেটের বড় অংশ অব্যয়িত থেকে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনাকালীন সময়ের বেঁচে যাওয়া ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে তদারকি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
এসএফ
[ad_2]