• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন |
  • English Version

স্টেশনে কুড়িয়ে পাওয়া সেই স্বপ্নার রাজকীয় বিয়ে

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন


মাত্র চার বছর বয়স। পরনে মলিন পোশাক, চোখে একরাশ আতঙ্ক। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে মানুষের ভিড়ে ডুকরে কাঁদছিল ছোট্ট একটি শিশু। নিজের নামটুকুও ঠিকমতো বলতে পারছিল না সে। সেদিন কেউ জানতো না এই শিশুটির ঠিকানা কী। কিংবা কার হাত ধরে সে এখানে এসেছে।

সেই থেকে শুরু। দীর্ঘ ১৪ বছরের লড়াই আর অপেক্ষার পর সেই ‘অচেনা’ শিশু স্বপ্না আক্তারের জীবনে এলো এক বিশেষ মাহেন্দ্রক্ষণ।

বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সিলেটের শিবগঞ্জ লামাপাড়ায় এক রাজকীয় ও আবেগঘন পরিবেশে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন তিনি। যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আশ্রয়ে তিনি বেড়ে উঠেছেন, তারাই আজ ঘটা করে বিয়ে দিলেন তাদের সেই আদরের মেয়েকে।

বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা। স্বপ্নার ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে তার নামে এই টাকা এফডিআর করে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় এক দানশীল ব্যক্তি নতুন দম্পতির সংসারের প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র উপহার দিয়েছেন। মানবিক এ কাজে ১০০ কাপ দই উপহার পাঠিয়ে তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করেছে একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।

সমাজসেবা কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১২ সালের দিকে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদ্ধার হওয়া স্বপ্নার পরিচয় ছিল ‘কুড়িয়ে পাওয়া শিশু’। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার বাবা-মা দুজনই মৃত। পরে সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রই হয়ে ওঠে তার একমাত্র আপন ঘর। সেখানে থাকা, খাওয়া আর পড়াশোনার মধ্য দিয়ে বড় হতে থাকেন তিনি। ২০২৫ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করে নিজের মেধার প্রমাণ দেন স্বপ্না।

স্বপ্নার বিয়েতে ছিল না কোনো কমতি। লাল বেনারসি, চন্দন আর গয়নায় সজ্জিত করা হয় তাকে। তার স্বামী সিলেটেরই এক যুবক। তিনি পেশায় ইলেকট্রিক ঠিকাদার। স্বপ্নার সম্মতি এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সম্বন্ধ করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস এম মোক্তার হোসেন বলেন, ‘স্বপ্না আজ ১৮ পূর্ণ করেছে। আমরা চেয়েছি তার জন্য এমন একজন জীবনসঙ্গী খুঁজে নিতে, যে তাকে সম্মান ও নিরাপত্তা দেবে। আজ আমাদের বুকটা ভরে গেছে।’

বিয়েতে উপস্থিত হয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘এটি কেবল একটি বিয়ে নয়, এটি মানবতার বিজয়। রাষ্ট্র যখন কোনো শিশুর অভিভাবক হয়, তখন তার জীবন কতটা সুন্দর হতে পারে, স্বপ্না তার উজ্জ্বল উদাহরণ।’

এই খবরটি আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts