• শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন |
  • English Version

সোনারগাঁয়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকার জন্য ব্যবসায়ীর জানাজা আটকালেন বিএনপি নেতা

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে মো. গোলজার হোসেন নামের এক মৃত ব্যবসায়ীর জানাজা ও দাফন কার্যক্রম আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা দাবি করা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিলে প্রায় ২ ঘণ্টা পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত গোলজার হোসেন উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের গোপেরবাগ এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ঈদুল আজহার দিন দুপুরে তিনি মারা যান।

ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  শুক্রবার (২৯ মে) সকাল আটটার দিকে গোলজার হোসেনের মরদেহ জানাজার জন্য স্থানীয় মশুরাকান্দা ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়। এ সময় উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম প্রধান মৃতের কাছে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা পাবেন দাবি করে জানাজা ও দাফনে বাধা দেন। টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত জানাজা হতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। এতে সেখানে উপস্থিত কয়েকশ মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়।

দীর্ঘক্ষণ অচলাবস্থা চলার পর, মৃতের স্বজনরা আগামী রবিবারের মধ্যে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলে সায়েম প্রধান জানাজা সম্পন্ন করার সুযোগ দেন।

এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া
জানাজায় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা হজরত মিয়া বলেন,”জানাজায় কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। একটি মরদেহ সামনে রেখে পাওনা টাকার জন্য যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।”

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
জানাজা আটকানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা সায়েম প্রধান বলেন, “গোলজার হোসেনের সঙ্গে আমার ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। তার কাছে আমি মুরগি বাবদ ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা পেতাম। বহুবার তাগাদা দিয়েও টাকা পাইনি। মূলত টাকার জন্য জানাজা আটকে দিয়েছি বিষয়টি তেমন না, একটা সমাধানের জন্যই ওখানে কথা হয়েছিল। একপর্যায়ে মৃতের পরিবারের সদস্যরা রবিবার টাকা ফেরত দেবে বলে জানান। বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।”

এদিকে মৃত ব্যক্তির ভাগিনা সাইফুল ইসলাম জানান, ওই ঘটনার সমাধান হয়েছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিষয়ের জন্য সায়েম প্রধান সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মৃতের ভাতিজা সাইফুল ইসলামের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং সুমন নামের আরেক ভাগিনাকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পুলিশের বক্তব্য
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার বলেন,”ঘটনাটি সম্পর্কে থানা পুলিশকে কেউ অবহিত করেনি। যদি আমাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হতো, তবে আমরা অবশ্যই ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।”




আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts