
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের অলিপুরা বাজার এলাকায় সরকারি খালের ওপর অনুমতি ছাড়াই একটি বেসরকারি ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে এ নির্মাণকাজ করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সনমান্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খোকন শিকদার এবং ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনির শিকদারের বিরুদ্ধে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে একটি কোম্পানিকে সুবিধা দিয়ে সরকারি খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এদিকে এ সংক্রান্ত একটি আবেদনপত্রের কপি পাওয়া গেছে, যেখানে মো. জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি গত ২৫ মার্চ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে খালের ওপর একটি লোহার ব্রিজ নির্মাণের অনুমতি চেয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
সনমান্দী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল হক টিক্কা বলেন, “ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ অবগত নয়। আমাদের কাছ থেকে কেউ কোনো অনুমতি নেয়নি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাও এ বিষয়ে কিছু জানাননি। এটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে করা হচ্ছে।”
উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আলমগীর চৌধুরী বলেন, “অলিপুরা বাজার-সনমান্দী খালের ওপর কোনো ব্রিজ নির্মাণের আবেদন গৃহীত হয়নি। সরকারি খালের ওপর অনুমতি ছাড়া কোনো স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, “বিএনপি নেতা খোকন শিকদারের অনুমতি নিয়েই আমরা ব্রিজ নির্মাণ করছি।” তবে তিনি কোনো লিখিত অনুমোদনের কাগজ দেখাতে পারেননি।
অভিযুক্ত খোকন শিকদার জানান, “আমি খালটির সভাপতি হিসেবে তাকে ব্রিজ নির্মাণের অনুমতি দিয়েছি,” তবে টাকার লেনদেনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান বলেন, “সরকারি খালের ওপর কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমোদন বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া এ ধরনের নির্মাণ পরিবেশ ও পানি প্রবাহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী দ্রুত এ নির্মাণকাজ বন্ধ করে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।