[ad_1]
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের গ্যাস বিলের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগীরা শাখা কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেন।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের ফেন্ডস টাওয়ারে অবস্থিত আল-আরাফাহ ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের হাউজিং আউটলেট শাখায় এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, গ্রাহকদের জমা দেওয়া গ্যাস বিল তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে পরিশোধ না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী কামাল জানান, তিনি নিয়মিত ওই এজেন্ট শাখার মাধ্যমে গ্যাস বিল পরিশোধ করলেও সম্প্রতি তার বাসার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানায়, তার নামে বকেয়া রয়েছে। ব্যাংকের জমা ভাউচার দেখালেও যাচাই করে দেখা যায়, টাকা জমা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. সালাম। তিনি বলেন, “প্রায় ৯ মাসের গ্যাস বিল জমা দেওয়া হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি। ভুয়া সিল ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।” তিনি দ্রুত টাকা ফেরত ও জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।
আরেক ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন বলেন, তারও কয়েক মাসের বিল জমা হয়নি এবং গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তিনি সুস্থ হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এজেন্ট শাখাটি চালুর পর থেকেই একটি চক্র বিভিন্ন কৌশলে নিয়মিত অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। এতে জড়িত হিসেবে শাখার মালিক জহির, ক্যাশিয়ার আল মামুন ও অপারেশন অফিসার সবুরের নাম উল্লেখ করা হয়। এলাকাবাসী তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার আল মামুন ও অপারেশন অফিসার সবুর প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে অনিয়মের কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। তারা দাবি করেন, মূলত এজেন্ট মালিক জহির এ ঘটনার জন্য দায়ী এবং তাকে বারবার গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে বলা হলেও তিনি তা করেননি। একই সঙ্গে তারা বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আমিনুল ইসলাম বলেন, সফটওয়্যার সমস্যার যে অজুহাত দেওয়া হয়েছে তা ভিত্তিহীন। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “এজেন্ট শাখার কারণে ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
[ad_2]