[ad_1]
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে উঠা অবৈধ দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজি ও চাঁদা না দেয়ায় মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ আমলী আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে বিচারক এম সাইফুল ইসলাম একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান চাঁদাবাজ সালাউদ্দিনের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জপুলস্থ এলাকা থেকে চাঁদাবাজ সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতার সালাউদ্দিন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মিজমিজি পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে।
ভক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে উঠা দোকানপাট ও সড়ক দখল করে ভ্যানগাড়ি বসিয়ে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছেন গ্রেফতার বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন। দাবীকৃত চাঁদা না দিলে সে নিজে এবং তার বাহিনী ব্যবসায়ীদের মারধর করে।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম ভাঙিয়ে আরও বেপরোয়াভাবে চাঁদাবাজি শুরু করেন সালাউদ্দিন ও তার ভাই কামাল। দুই ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের এই চাঁদাবাজির ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন আওয়ামী লীগের দোসর মোশাররফ ওরফে বিদ্যুৎ চোর মোশাররফ। সালাউদ্দিন ও কামাল বাহিনীর অন্য সদস্যরা হলেন, মোজাম্মেল ওরফে ফোকিন্নি মোজাম্মেল, বাবুল ওরফে বেদ্দপ বাবুল, মাছ বেপারী মাসুদ, আমির হামজা কাউসার ওরফে সুধি কাউসার, মিঠু ওরফে কাইল্যা মিঠু, আলমগীর ওরফে বুইড়ার পোলা আলমগীর, বাঙালি ও থাই মিস্ত্রী ইসহাক। এই চক্রটি বিদ্যুৎ চুরি করে বাণিজ্য ছাড়াও চাঁদাবাজি, জবর দখলসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া সব ফল দোকান থেকে চাঁদা উত্তোলন করে নাহিদ মুন্সী। সালাউদ্দিনের ভাই চিহ্নিত চাঁদাবাজ কামাল ৫ আগস্টের পর সিদ্ধিরগঞ্জ পুল এলাকায় চাঁদাবাজি করার সময় ছাত্র-জনতার হাতে ধরা পড়ে। পরে গণধোলাই দিয়ে তাকে স্থানীয় সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে যায় ছাত্ররা।
এদিকে গত ২৪ এপ্রিল আজিজুল হক নামে এক দোকানির কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন ও দোকান ভেঙে দেয় বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন ও তার ভাই কামাল। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী আজিজুল হক চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের পরিপেক্ষিতে রোববার সালাউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, সালাউদ্দিনের ৫ রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলাম আদালতে। শুনানি শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতার সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
এদিকে এলাকাবাসী জানায়, সালাউদ্দিন গ্রেফতার হওয়ার পর ব্যবসায়ীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসলেও তার ছেলে, স্ত্রী, মেয়ে, ভাই সহ বাহিনীর সদস্যরা নানাভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে মামলার বাদী আজিজুল ও পরিবারের সদস্যদের। ফলে তারা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন।
এলাকাবাসী চাঁদাবাজ সালাউদ্দিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা বলেন, সালাউদ্দিনকে জামিন করাতে গত কয়েদিন ধরে স্থানীয় এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নান, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন সহ বিভিন্নজনের কাছে কান্নাকাটি করছেন সালাউদ্দিনের পরিবার।
[ad_2]