[ad_1]
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগে অবরোধে নামা নেতাকর্মীদের কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাদি হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তরের দাবিতে এবং আন্দোলনরতদের ওপর হামলার প্রতিবাদে শাহবাগে বিক্ষোভ চলছিল। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যেতে চাইলে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।তখন আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দিকে চলে যায়। পুলিশ অবস্থান নেয় শাহবাগ থানার সামনে।
পুলিশের বাধা উপেক্ষা অনেকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান করতে চাইলে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। এতে কয়েকজন আহত হন। এরপর রাত ৮টার দিকে শাহবাগ মোড়ের আশপাশ থেকে অবরোধকারীরা ফের জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে কাঁদুনে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। কাঁদুনে গ্যাসের কারণে এ দফাতেও ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু তারা আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন। রাত পৌনে ৯টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছিল।
এদিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেন তারা। তাদের অবরোধে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। আশপাশের সড়কে তৈরি হয় তীব্র যানজট। হাদি হত্যার বিচার দাবিতে নতুন করে এ আন্দোলন শুরু হয় বৃহস্পতিবার। সেদিন সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। একই দাবিতে শুক্রবার জুমার পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জমায়েতের ডাক দেয় সংগঠনটি। বিকাল ৪টার দিকে সেই জমায়েত থেকে যমুনা অভিমুখে রওনা হলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে মঞ্চের নেতাকর্মীদের, রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের এলাকা। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে শাহবাগ থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত।
পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটার পাশাপাশি সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে। এতে সংগঠনের সদস্য সচিব সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজন আহত হন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরমধ্যে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেইজ থেকে জাবেরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেওয়া হয়। যেটির বরাতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর পুলিশ তা অস্বীকার করে বার্তা পাঠায়। পুলিশের মতো একই বক্তব্য এসেছে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফেও। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকেও বলা হয়, আহতদের মধ্যে তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কাউকে পায়নি।
[ad_2]