
ঘোষণা দিয়ে ডাক-ঢোল পিটিয়ে সোমবার দুপুরের পর হকার উচ্ছেদ করতে মাঠে নামে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এরআগেই ফাঁকা হয়ে যায় নগরের ফুটপাত। সকাল থেকে বসেনি কোন হকার। এই তথ্য পুরো নগরবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তারপরও উচ্ছেদের নামে ব্যাপক শোডাউন নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানকে সহযোগিতা করে পুলিশ প্রশাসন ও র্যাব। সমর্থন যোগায় বিএনপি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। বেলা দুইটা থেকে শহরের চাষাড়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অবস্থান নেয় সিটি করপোরেশনের বিপুল সংখ্যক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবী। বেলা পৌনে ৩টায় সিটি করপোরেশনের বুলডোজার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে চাষাড়া জিয়া হলের সামনে যান প্রশাসক এড.সাখাওয়াত হোসেন খান। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের শীর্ষ নেতারা জিয়াহলের সামনে জড়ো হন। শহীদ মিনারে থাকা পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও জিয়া হলের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এছাড়া উচ্ছেদ অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ি সংগঠন ও বিএনপি কয়েকটি মিছিল গিয়ে যুক্ত হয় জিয়া হলের সামনে। জিয়া হলের সামনে সড়কের উপর বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির কারণে চাষাড়া গোল চত্তরে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়।
এদিকে মিডিয়ায় চেহারা দেখানোর জন্য রীতিমত প্রতিযোগিতা দেখা যায় জিয়াহলের সামনে অবস্থান নেয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাকে। ধাক্কা-ধাক্কি-হৈ চৈ হয় এ নিয়ে। মিডিয়াকর্মীদেরও হিমশিম খেতে হয়েছে উচ্ছদ অভিযান ঘিরে জিয়া হলের সামনে অনির্ধারিত সমাবেশ কাভার করতে গিয়ে। পাতি নেতাদের কারণে মিডিয়াকর্মীরা ঠিক মতো সমাবেশটি কাভার করতে পারেনি।
ওদিকে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেনের সাথে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর তর্কবিতর্কর দৃশ্যমান হয়। বক্তব্য দিতে গিয়ে অস্বস্থিতে পড়েন নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম। অন্যদিকে মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদ মাইক্রোফোন হাতে নিয়েও বক্তব্য দিতে না পেরে বর্জন করেন। হোমড়া-চোমড়া কতিপয় নেতানেত্রীরাও ফোকাসে আসার প্রাণচেষ্টা চালিয়েছেন। যা দৃষ্টিকটু হয় উপস্থিত লোকজনের মাঝে। অনেককেই ফিস ফাস করে বলতে শোনা যায়, ক্যামেরায় চেহারা দেখাতে কি না করতেছে তারা। হকার তো নাই, ফাঁকা মাঠে তাদের এতো লম্ফঝম্ফ কেন?
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে জিয়াহলের সামনে শোডাউনে ফুটপাতের অনেক চাঁদাবাজকে দেখা গেছে। যেই সকল চাঁদাবাজ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ফুটপাতে হাকারদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছিল।
অন্যদিকে ফতুল্লার শুভ হত্যা মামলার প্রধান আসামি মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানাকেও প্রকাশ্যে দেখা গেছে এই শোডাউনে। অথচ আইনশৃংখলাবাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।