• বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন |
  • English Version

রায় নয়, ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ের পথে দেশ—নজর এখন কার্যকরের দিকে – IPCSBDPress

Reporter Name / ৮৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন


আপডেটঃ ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৮, ২০২৫

নিউজ ডেস্কঃ

সোমবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর থেকেই দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়ার ঢেউ। দুপুরের পর থেকেই ফেসবুক, এক্স ও ইনস্টাগ্রামে অসংখ্য ব্যবহারকারী নিজেদের অনুভূতি জানিয়ে পোস্ট দিতে শুরু করেন। কেউ লিখিত মন্তব্যে, কেউ ভিডিও বা ছবি শেয়ার করে আবার কেউ মিম ও স্যাটায়ারের মাধ্যমে রায়ের প্রতি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। নানা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে উচ্ছ্বাস, হতাশা, ক্ষোভ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা প্রকাশ পাচ্ছে। #হাসিনা, #ট্রাইব্যুনাল, #ফ্যাসিস্ট এবং #হ্যাংহাসিনা হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানান।

জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের পেজগুলোতেও একের পর এক পোস্ট দিয়ে রায়কে ন্যায়ের পুনঃস্থাপনের মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের লেখা পোস্টগুলো মানুষের মনে নতুন আবেগ জাগিয়েছে, যেগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়েছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ছোটখাটো উদযাপনের ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকেই লিখেছেন, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের পর এই রায় জনগণের মনে ন্যায় প্রতিষ্ঠার আশা ফিরিয়ে দিয়েছে। কেউ কেউ লিখেছেন, এটি রাজনৈতিক প্রতিশোধের বিচার নয় বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এক সূচনা। ব্যবহারকারী আরাফাত ইসলাম তার পোস্টে লেখেন, রায়ের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের রক্তের দাবি পূরণ হলো। আরেক ব্যবহারকারী মিরাজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, শহীদের রক্তের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ ছিল বিচার, আর মৃত্যুদণ্ডই ছিল সেই দাবির যুক্তিযুক্ত পরিণতি। ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশের পাশাপাশি অনেক ব্যবহারকারী প্রজ্ঞাপন ও প্রতিশ্রুতিমূলক বক্তব্যের সঙ্গে মিম, গিফ ও ভিডিও যুক্ত করে রায় দ্রুত কার্যকরের আহ্বান জানিয়েছেন।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু তরুণ শেখ হাসিনার ছবিতে জুতা নিক্ষেপের প্রতীকী কর্মসূচি পালন করছেন। সেখানে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান এবং মিষ্টি বিতরণের দৃশ্যও ফুটে ওঠে। আহত জুলাই কর্মী ইয়ামিন ইসলাম ফেসবুকে লেখেন, আদালত যে রায় দিয়েছেন, তা আমাদের আন্দোলনের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়েছে। এখন শুধু চাই রায় দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। ‘রেড জুলাই’ নামে একটি পেজে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত ছাত্র সাজিদের মায়ের একটি পুরোনো ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে, যার ক্যাপশনে লেখানো হয়, এই কান্না যেন বৃথা না যায়। পরের পোস্টে লেখা হয়, আল্লাহর কাছে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা রইল, আর বিচার সম্পন্ন হলে মানুষের আত্মা শান্তি পাবে।

এ সময় ইউটিউব ও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর একটি পুরোনো ভিডিও, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। ভিডিওটি প্রচুর শেয়ার হয়, এবং অনেকে লিখেছেন যে অনেক আগের ভবিষ্যদ্বাণী যেন সত্যি হলো। এছাড়া মাবরুর রশিদ বান্নাহ একটি পোস্টে লিখেছেন, নিহতদের পরিবারই এই রায়ের প্রকৃত অর্থ ভালোভাবে বোঝেন, কারণ দীর্ঘদিনের ক্ষত ও অপেক্ষার পর বিচারপ্রাপ্তি তাদের কাছে নতুন ইতিহাসের সূচনা। কিছু ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, রায় কার্যকর হলে রাজনৈতিক দায়মুক্তি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধে এক নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

আইন ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া শুধু আনন্দের বহিঃপ্রকাশ নয়, এতে ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও জনমতের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ন্যায়বিচারের দাবি, অতীতের ভুলের হিসাব এবং বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি তৈরির আহ্বান জনগণকে আরও সক্রিয় করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন তারা। প্রযুক্তি বিশ্লেষক ইমদাদুল হক জানান, সোশ্যাল মিডিয়ার উচ্ছ্বাস আসলে দীর্ঘ অপেক্ষা ও ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তার মতে, এই প্রতিক্রিয়াগুলো সামাজিক ও রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বে পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের কেউ কেউ স্থানীয় পর্যায়ে গণকমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে দাবি করছেন যে, রায় কার্যকরের জন্য জনগণকে সংগঠিত হতে হবে।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতির কথা জানা গেলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় জনমতের প্রবাহ আপাতত রায় বাস্তবায়নের প্রত্যাশার দিকেই প্রবলভাবে ঝুঁকে আছে।

IPCS News : Dhaka :


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts