
মো হিমেল মিয়া।
মনোহরদী (নরসিংদী), ১২ জুলাই: ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে রবিবার বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মনতলা এবং ১ নং ওয়ার্ডের কালিরচর গ্রাম পরিদর্শন করেন মনোহরদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়া।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহানের নির্দেশনায় তিনি এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় পশ্চিম মনতলা গ্রামের জলাবদ্ধতা এবং কালিরচর–ভাওয়ালিয়া পাড়া সড়কের দীর্ঘ তিন বছর ধরে অসমাপ্ত কালভার্ট নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি তিনি ৩১ নং কালিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন পরিদর্শন করেন এবং নির্মাণকাজে স্থানীয়দের উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পর্যালোচনা করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ শোনেন। এলাকাবাসী জানান, কালিরচর ও ভাওয়ালিয়া পাড়ার মাঝামাঝি প্রায় তিন বছর আগে একটি কালভার্ট নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখনো তা সম্পন্ন হয়নি। ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এরই মধ্যে বিকল্প সড়কেও নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় ভাওয়ালিয়া পাড়ার বাসিন্দারা কার্যত যানবাহন চলাচল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বলে জানান এলাকাবাসী।
পরিদর্শনকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়া পশ্চিম মনতলা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, অসমাপ্ত কালভার্ট নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘব এবং ৩১ নং কালিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবনের নির্মাণকাজে উত্থাপিত অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এলাকাবাসী দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসন, অসমাপ্ত কালভার্ট নির্মাণকাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা এবং বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজের অনিয়ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খিদিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যবৃন্দ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বাসিন্দারা।