মনোহরদীতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি: ২ হাজার শিক্ষার্থীর হাতে গাছের চারা বিতরণ।
মনোহরদী (নরসিংদী) প্রতিনিধি: পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে নরসিংদীর মনোহরদীতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর উদ্যোগে তারাকান্দী উচ্চ বিদ্যালয়, নোয়াকান্দী হাজী আলীম উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয় ও অর্জুনচর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির দেশব্যাপী ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
তারাকান্দী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)-এর সদস্য সচিব ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লব।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, নরসিংদী জেলা কৃষকদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম আপেল এবং সদস্য সচিব দীপক কুমার বর্মন প্রিন্স।
আয়োজকরা বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ প্রতিবছর বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। এর প্রভাব মানুষের জীবনযাত্রা ও গড় আয়ুর ওপরও পড়ছে। এসব ক্ষতি মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, বেশি করে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। পাশাপাশি পরিবেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথও সুগম হবে। বেকারত্ব কমাতেও বৃক্ষভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশকে স্থিতিশীল রাখতে তাই ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা প্রয়োজন।
কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এ্যাবের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো কর্মসূচি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।