
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে আগামী এক বছর তাঁর জন্য ‘ভিভিআইপি’ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। অর্থাৎ, আগামী এক বছর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) কাছ থেকে নিরাপত্তা-সুবিধা পাবেন ড.ইউনূস।
গতকাল রাত থেকেই বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এসেছে এই খবর। তবে এই প্রক্রিয়াটি গোপনে সম্পন্ন হয়েছে কি না, এ নিয়ে নানা বিতর্ক জেগেছে। এ নিয়ে আজ ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম লিখেছেন, এসএসএফের নিরাপত্তা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আইন ভাঙেননি ড. ইউনূস।
ফেসবুক পোস্টের প্রথম ভাগে শফিকুল আলম লিখেছেন, ‘১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠনের পরবর্তী সময়ে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান উপদেষ্টা কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। এ সংক্রান্ত যে আদেশটি জারি করা হয়েছে, সেটি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর একটি প্রক্রিয়াগত বাধ্যবাধকতা। কারণ, এমন আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া তারা কোনো সাবেক সরকারপ্রধানকে নিরাপত্তা দেয় না। এটা (এসএসএফের নিরাপত্তা নেওয়া) অস্বাভাবিক কিছু নয়, নজিরবিহীনও নয়।’
পোস্টে ২০০১ সালে দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সে সময়ের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জন্য এসএসএফ-এর নিরাপত্তার ব্যবস্থা রেখে জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের ছবি তুলে ধরেছেন শফিকুল আলম। সেই প্রজ্ঞাপনের সূত্র টেনে পোস্টের দ্বিতীয় অংশে সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেস সচিব লিখেছেন, ‘…তথ্যসূত্র হিসেবে ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিচারপতি লতিফুর রহমানের প্রশাসনের জারি করা একই ধরনের একটি আদেশ সংযুক্ত করে দিলাম, যে আদেশটি জারি করা হয়েছিল ওই বছরের অক্টোবরে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার কিছু আগে।’
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড.ইউনূসের জন্য এসএসএফ-এর নিরাপত্তা জারি করার ক্ষেত্রে বিতর্ক অবশ্য প্রজ্ঞাপন কিংবা সেটির ভাষা নিয়ে ওঠেনি, উঠেছে প্রজ্ঞাপন জারি করার ক্ষেত্রে দাবিকৃত গোপনীয়তা নিয়ে। সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ২৪ আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘..সরকারি গেজেট সাধারণত বাংলাদেশ গভার্নমেন্ট প্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ ও সংরক্ষণ করা হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম মঙ্গলবার বাংলাদেশ গভার্নমেন্ট প্রেসের ‘Extraordinary Gazettes (Monthly)’ আর্কাইভের ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির প্রকাশ তালিকা পর্যালোচনা করে। সেখানে সংশ্লিষ্ট গেজেটটি পাওয়া যায়নি।’
জারিকৃত প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত) মো. সাইফুল্লা পান্না।