
ভারতের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দেশটির নিরাপত্তার জন্য ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি’ হয়ে উঠেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তিনি দাবি করেন, রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ‘ভারতবিরোধী শক্তি’র যোগাযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশন ও বিভিন্ন মন্তব্য ঘিরে কংগ্রেস–বিজেপি দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়েছে এবং এর মধ্যেই এই মন্তব্য করলেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, লোকসভার বিরোধীদলীয় এই নেতার বিরুদ্ধে ভারতবিরোধী শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, মাওবাদী ও উগ্রপন্থিদের সঙ্গে সাক্ষাতের অভিযোগও তোলেন ভারতের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী। বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রিজিজু বলেন, ‘ভারত এমন বিরোধীদলীয় নেতা আগে দেখেনি।’
সাম্প্রতিক সংসদ অধিবেশনে অচলাবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী রিজিজু বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে হট্টগোল থাকবেই। প্রতিটি দলের নিজস্ব এজেন্ডা আছে এবং তারা তা সংসদে তুলে ধরার চেষ্টা করবে। এটিকে নিজে থেকেই ব্যর্থতা বলা যায় না। তবে হট্টগোলের পাশাপাশি কী ধরনের আচরণ হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, তখন স্পিকারের দিকে কাগজ ছুড়িনি, ক্ষমতাসীন দলের দিকে ব্যানার নিয়ে যাইনি। এ কারণেই আমি হতাশ।
রিজিজুর ভাষায়, রাহুল গান্ধীর আচরণকে তার অবস্থানের তুলনায় ‘শিশুসুলভ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’। বিরোধীদলীয় নেতা পুরো বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিত্ব করেন। সংসদের বাইরে গিয়ে মানুষকে বিশ্বাসঘাতক বলা, নাটকীয় অবস্থান ধর্মঘট করা, প্রকাশিত হয়নি এমন বই থেকে উক্তি পড়ার জোরাজুরি, এসব শিশুসুলভ আচরণ।’
এ প্রসঙ্গে তিনি সংসদে রাহুল গান্ধী ও তার সাবেক সহকর্মী, বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রভনীত সিং বিট্টুর মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।
এপস্টেইন ফাইলস বিতর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের বিষয়েও প্রশ্ন তোলে রিজিজু বলেন, রাহুল গান্ধীর অনুসারীরাই কেন এসবকে গুরুত্ব দেন না, ভাবুন- তিনি প্রমাণ ছাড়া কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী যদি কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকেন বা কোনও নথি থাকে, তা উপস্থাপন করুন। ভিত্তিহীনভাবে প্রধানমন্ত্রীর নাম টানা হচ্ছে, যা হতাশা ও দুঃখজনক। ভারতবিরোধী শক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে রাহুল গান্ধী দেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। তিনি দেশে-বিদেশে নকশাল, উগ্রপন্থি, মতাদর্শিক গোষ্ঠী এবং জর্জ সোরোসের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কংগ্রেসে একসময় পরিপক্ব ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ছিল। ধীরে ধীরে কংগ্রেস রাহুল গান্ধীর মতো হয়ে গেছে, তার আশপাশের লোকজনও তার মতো আচরণ করছে। টানা তিনবার হারের পরও একই নেতাকে ধরে রাখবে— এমন কংগ্রেস আমরা কল্পনাও করিনি। বিজেপিতে কোনও নেতা টানা তিনবার হারলে নেতৃত্বে থাকতে পারতেন না।