• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন |
  • English Version

বন কর্মকর্তার স্ত্রী দাবি করে ১২ নারীর মানববন্ধন

Reporter Name / ১৬২ Time View
Update : বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন


বহুবিবাহ ও প্রতারণার অভিযোগে বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. কবির হোসেন পাটওয়ারীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, এই বন কর্মকর্তা ১৫ থেকে ১৬টি বিয়ে করেছেন। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ১০ থেকে ১২ জন নারী এত বিয়ের প্রমাণ দেখাতে পারেননি। এ সময়ে  উপ-বন সংরক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিুমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাকে অপসরণের দাবি জানান তারা।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) ‘ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজের’ ব্যানারে নগরীর কাশিপুর বন সংরক্ষক কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন করা হয়।  এতে মো. কবির হোসেন পাটোয়ারীর একাধিক স্ত্রী ও স্বজনরা অংশগ্রহণ করেন। 

ভুক্তভোগীরা জানান, বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বাসিন্দা। তিনি এর আগে ঢাকা, খুলনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন জেলায় কর্মরত থেকে বিয়ের নামে প্রতারণা করেছেন। কবির হোসেন বিদেশে পড়াশোনা করানো, সরকারি চাকরি দেওয়া, বিমানবালার সুযোগ কিংবা সম্পত্তি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যে যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে একে একে সংসার ভাঙে। এভাবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার নারীরা তাঁর প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কবির হোসেনের এক স্ত্রী জানান, কবির হোসেন পাটোয়ারী এ পর্যন্ত যেসব স্টেশনে চাকুরি করেছেন সেই সব এলাকায় একটি করে বিয়ে করেছেন। আর প্রত্যেকটি স্টেশন ত্যাগ করার পরে তাদের আর কারই খোঁজ রাখেন না। অন্য এক স্ত্রী বলেন, আমরা যতদূর খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি তার অন্তত ১৬ থেকে ১৭জন স্ত্রী রয়েছে। তাদের কোনো খবর না নেওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি এক বছর আগে বরিশালে যোগ দেওয়ার পরে এখানেও বিয়ের করার জন্য মেয়ে খুঁজছেন। তাই কবির হোসেনের স্ত্রী ও তাদের স্বজনরা এই কর্মসূচি পালন করছেন। ইতোমধ্যে নারী নির্যাতনে অভিযোগে থানায় ও আদালতে একাধিক মামলার রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সবশেষ খুলনায় চলতি বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন কবির। বিয়ের দ্বিতীয় দিনেই স্ত্রীর বাবার বাড়ির অংশ লিখে দেওয়ার দাবি তোলেন। রাজি না হওয়ায় স্ত্রীকে বরিশালের সরকারি বাসভবন থেকে বের করে দেন। ওই স্ত্রী অভিযোগ করেন, আমাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছে। বাবার বাড়ির সম্পত্তি লিখে না দেওয়ায় নির্যাতন করে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। থানায়, আদালতে এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করলেও এখনো কার্যকর প্রতিকার পাননি তিনি। একাধিকবার দাপ্তরিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেও প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় কবির হোসেন দ্রুত জামিন পান।

এ বিষয়ে কথা বলতে বন কর্মকর্তা কবির হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে তাঁর আইনজীবী এনায়েত হোসেন বাচ্চু জানান, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই ভিত্তিহীন।




আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

More News Of This Category

Most Viewed Posts