[ad_1]
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কায়েমপুর ও সস্তাপুর এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ সিন্ডিকেট। বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী মাজারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি চক্র রাতের আঁধারে কৌশলে আবাসিক এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির স্থানীয় অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদেরও প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে।
রাতের আঁধারে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাজারুল ইসলাম নিজেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাপট দেখিয়ে আসছেন। ফতুল্লার কায়েমপুর গ্যাস অফিসের জসিম উদ্দিন নামের এক কর্মকর্তার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে অবৈধভাবে গ্যাস লাইন সংযোগ দিচ্ছেন এবং বিনিময়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।
পুরোনো সংযোগ থেকে দেওয়া হচ্ছে নতুন সংযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের প্রধান টার্গেট হলো পুরোনো অবৈধ সংযোগের উৎসগুলো। কয়েক মাস আগে কায়েমপুর এলাকার বাসিন্দা বশির মিয়ার বাড়িতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একটি অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। গত ২৭ মে রাতে মাজারুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা ওই পুরোনো সংযোগটি থেকেই কৌশলে আরও দুটি নতুন অবৈধ সংযোগ প্রদান করেন।
প্রতিবাদ করলেই দলীয় প্রভাব খাটিয়ে হুমকি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অবৈধ সংযোগ দেওয়ার সময় কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে মাজারুল ইসলাম নিজেকে দলীয় নেতা দাবি করে উল্টো হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। অন্যদিকে স্থানীয় গ্যাস অফিসের কর্মকর্তা জসিম এই অবৈধ লাইন স্থাপনের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকেন। ফলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের মূল তদারকি এড়িয়ে চক্রটি অবাধে তাদের এই ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
এ বিষয়ে কায়েমপুর গ্যাস অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে নিয়মবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস লাইন টানা এবং সংযোগ দেওয়ার কারণে এলাকায় যে কোনো সময় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এসব অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি জড়িত মাজারুল ও তিতাস কর্মকর্তা জসিমসহ পুরো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
[ad_2]