
আপডেটঃ ১২:৫৩ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ০৫, ২০২৬
নেত্রকোনা:- নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলায় জামিনে বের হয়ে বাদীকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বাড়ি ঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে আসামী রহুল গংদের বিরুদ্ধে।এই নিয়ে গত শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী মোঃ হারেছ মিয়া।অভিযোগে জানা যায় গত মঙ্গলবার সকলে গেরিয়া গ্রামের বৃদ্ধ রাস্তু আক্তার (৬০)এর ওপর বাড়ি ভিটা দখল করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে পায়তারা করছে।এর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র দাও নিয়ে হামলা করে বৃদ্ধের মাথা ও শরীরে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে বাড়ির বাহিরে ফেলে রাখে।খবর পেয়ে গ্রামবাসী উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় মোঃ হারেছ মিয়া বাদী হয়ে বারহাট্টা থানায় ৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।আসামিরা হলেন, ইব্রাহিম (২০) পিতা রহুল মিয়া, রহুল মিয়া (৫০) পিতা মৃত শহর আলী, অন্তর মিয়া (২৫) পিতা দুলাল মিয়া, লাল্টু মিয়া অরফে নুরুল আমিন (৪০) পিতা মৃত শহর আলী, শিখা আক্তার (৪৮) স্বামী রহুল আমিন, জাহানারা আক্তার (৫০) স্বামী দুলাল মিয়া।
এরা সকলেই মিলে বাদীপক্ষের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়।শুক্রবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে মহল্লা বাসীর সাথে কথা বলে যায়, আসামীরা জামিনে বের হয়ে রাতে আহত নারী বৃদ্ধের স্বামী হারেছ মিয়া (৮০) এর বাড়িতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এ-সময় বৃদ্ধ হারেছ মিয়া বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বারহাট্টা উপজেলা হাসপাতালে চলে আসে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার রাতে আসামী রহুল আমিন মামলার বাদী মোঃ হারেছ মিয়ার বাড়িতে দাও লোহার রড নিয়ে হামলা চালিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে।এসময় হারেছ মিয়া ঘরের পিছন দিয়ে বের হয়ে প্রাণে রক্ষা পায়।এলাকা বাসী জানিয়েছেন এই অসহায় দম্পতির কোনো সন্তান নেই।মানুষের দান দক্ষিণার ওপর বেঁচে আছে।
তাদের একমাত্র বাড়ি ভিটাই সহায় সম্বল।এই রহুল আমিন গেরিয়া গ্রামের সুবোধ শাহা নামের এক হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৮ শতাংশ ভূমি জোর করে দখল করেছে।এলাকার ২০ থেকে ৩০ জনের নামে মিথ্যা মামলা করেছে।মামলা করা তার একটা পেশা।আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে সরকারি ঘর পেয় সেই ঘর ভেঙ্গে আলিশান ঘর বানিয়েছে।
এই অসহায় পরিবারকে বাড়ি ঘর ছেড়ে যাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভয় ভীতি দেখাচ্ছে।বাড়ি ভিটা লিখে নেওয়ার জন্য প্রস্তাব করে।বাড়ি লিখে দিতে না দেওয়াতে বৃদ্ধকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে বাড়ির বাহিরে ফেলে রাখে।আহত রাস্তু আক্তার এখন চিকিৎসাধীন অবস্থায় বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর তথ্যমতে,ঘটনার মূল উদ্দেশ্য হল অসহায় বৃদ্ব পরিবারকে মেরে ফেলার জন্যই রুহুল আমিনের উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা হতে পারে।আসামিরা জামিনে গিয়ে বাদীপক্ষের ওপর হামলার বিষয়ে বারহাট্টা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাজমুল হাসান এ প্রতিনিধিকে বলেন, বাদীপক্ষ নিরাপত্তার জন্য থানায় এসে অভিযোগ দাখিল করলে যথাযথ ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
IPCS News : Dhaka : শহীদুল ইসলাম : নেত্রকোণা।