
নরসিংদীর মনোহরদীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে একের পর এক গবাদিপশুর মৃত্যুর ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের নোয়ানগর ও ভয়াশন গ্রামে গত এক মাস ধরে বেওয়ারিশ কুকুরের এই ভয়াবহ আক্রমণ চলছে। এতে শুধু ছাগল-গরুই নয়, হাঁস-মুরগিও রেহাই পাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত এক মাসে কুকুরের কামড় ও আক্রমণে শতাধিক গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত হয়েছে আরও দুই শতাধিক গবাদিপশু, যার মধ্যে অন্তত ৯০টিই আক্রান্ত হয়েছে চলতি মাসে। একের পর এক এমন ক্ষয়ক্ষতির পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী গ্রামবাসী আবুল কাশেম বলেন, “আমরা নিম্ন আয়ের পরিবার। বাড়ির মহিলারা সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে দু-একটি করে গরু- ছাগল ও হাঁস-মুরগি লালন-পালন করেন। তাই ফাঁকা মাঠে গরু-ছাগলগুলোকে ছেড়ে দিয়ে ঘাস খাওয়াই। এই সুযোগে বেওয়ারিশ কুকুরগুলো দলবেঁধে এসে গবাদিপশুগুলোকে আক্রমণ করে মেরে ফেলছে। এই কুকুরগুলো দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে গ্রামের সাধারণ পরিবারের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে।”
ক্ষতিগ্রস্ত আরেক কৃষক মো. তাজুল ইসলাম নিজের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “কয়েক দিন আগে ১০ থেকে ১২টা কুকুর মিলে আমার একটা গরু কামড়ে ক্ষতেবিক্ষত করে মেরে ফেলেছে, যার আনুমানিক মূল্য ছিল ৬০ হাজার টাকা। কিছু দিন আগে পাশের বাড়ির কাদেরের প্রায় ৩০ হাজার টাকার ৩টা ছাগল খেয়ে ফেলেছে। এই অবস্থায় আমরা কিভাবে গবাদি পশু পালন করব। আমরা এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
স্থানীয়রা আরো জানান, এই বেওয়ারিশ কুকুরের দল এখন শুধু গবাদিপশুর জন্যই নয়, বরং মাঠে কাজ করা কৃষক এবং স্কুলগামী কোমলমতি শিশুদের জন্যও বড় ধরনের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কুকুর নিধন বা ভ্যাকসিনের আওতায় এনে এই তাণ্ডব বন্ধের দাবি জানিয়েছেন নোয়ানগর ও ভয়াশন গ্রামবাসী।
#