[ad_1]
নরসিংদীতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্প সহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে জেলা প্রশাসন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর বিরুদ্ধে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, বৈষম্য এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ জনগণ। ভুক্তভোগীদের দাবি, একই প্রকল্পের অন্যান্য জেলার ন্যায় আইন অনুযায়ী তাদের সম্পূর্ণ কাঠামোর ক্ষতিপূরণ, বাস্তব জমির শ্রেণী (দোকান/বাণিজ্যিক) এবং বাজার মূল্য অনুযায়ী ব্যবসায়িক ক্ষতিপূরণ প্রদান না করে তাদের পৈতৃক ভূমি ও অবকাঠামো অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার(১৬ জুন)মেহেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে
ঢাকা – সিলেট তামাবিল মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাধবদীর ডোয়াই চৈতাব, নিসুন্দরিয়া, পৌলানপুর, উত্তর সরুপাবো, মৌজায় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতিপূরণ, বাস্তব জমির শ্রেণি দোকান/বাণিজ্যিক, বাস্তব জমির বাজার মূল্য, ব্যবসায় ক্ষতিপূরণ প্রদান না করা সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি-রাজস্ব) এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে
মোঃ মামুনুর রহমান প্রধান, মোঃ নুরুজ্জামান মোল্লা ও মোঃ আসাদ মিয়া বক্তব্য রাখেন।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, নরসিংদী জেলার বিভিন্ন মৌজায় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য (এল.এ কেইস নং- ০৩/২২-২৩, ১১/২১-২২, ১২/২১-২২ এবং ১৩/২১-২২) তাদের পৈতৃক ভূমি ও অবকাঠামো অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশিদার হিসেবে দেশের স্বার্থে তারা সানন্দে জমি দিতে রাজি হয়। কিন্তু নরসিংদীর জেলা প্রশাসন ও এডিসি (রাজস্ব) আইন ও নীতিমালার তোয়াক্কা না করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল আইনি লঙ্ঘন ও অনিয়মসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ভিডিও ধারণে কারচুপি ও ফাইল গোপন:
‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন, ২০১৭’ এর ৪(৩)ক ধারা অনুযায়ী প্রস্তাবিত ভূমির যৌথ ভিডিও ধারণ করার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু নরসিংদীর অনেক এল.এ কেইসে আইন অনুযায়ী ভিডিও করা হয়নি। আবার যেগুলোর ভিডিও রয়েছে, বর্তমান এডিসি (রাজস্ব) সেগুলো লুকিয়ে রেখে ২-৩ বছর আগের প্রস্তাবের ভিডিওচিত্রকে বর্তমানের পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করে ফিল্ডবুক প্রস্তুত করছেন। এর ফলে দালাল ও অপ্রকৃত ব্যক্তিরা সুবিধা পাচ্ছে এবং প্রকৃত ভোগদখলকারীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
২. জমির শ্রেণী পরিবর্তন ও ব্যবসায়িক ক্ষতিপূরণ না দেওয়া:
ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ১০.১২.২০১৭ এবং ১৩.০৯.২০২৩ তারিখে জারিকৃত পরিপত্র এবং ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ম্যানুয়েল, ১৯৯৭’ অনুযায়ী, যৌথ তদন্তকালে যদি জমির বাস্তব শ্রেণী পরিবর্তন বা কোনো স্থাপনা নির্মিত হয়ে থাকে, তবে তা সঠিকভাবে ফিল্ড বইতে অন্তর্ভুক্ত করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমনকি ম্যানুয়েলের ৪৫(চ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধিগ্রহণকৃত জমিতে স্থিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়ম আছে। কিন্তু নরসিংদী জেলা প্রশাসন এই নিয়ম সম্পূর্ণ অমান্য করে বাস্তব জমির শ্রেণী বাণিজ্যিক/দোকান হওয়া সত্ত্বেও ফিল্ড বইতে তা ‘ভিটি/নাল/বাগান’ দেখিয়ে প্রকৃত ভূমি ও অবকাঠামো মালিকদের ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করছে।
৩. সম্পূর্ণ অবকাঠামো অধিগ্রহণ না করা:
আইনের ১৫ ধারা মোতাবেক অবকাঠামোর সম্পূর্ণ অংশ অধিগ্রহণ করার স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও নরসিংদীতে তা মানা হচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসন সবাইকে ‘দালাল’ বানিয়ে জনগণের গলা কেটে সরকারকে দেখাচ্ছে যে তারা টাকা সাশ্রয় করেছেন। অথচ এর ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হচ্ছে এবং সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৪. নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অবৈধ সুবিধা প্রদান:
নীতিমালার ৪(৫)(৭) ধারা এবং নির্দেশাবলীর ১১ নং অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে যে, অধিগ্রহণাধীন ভূমিতে অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে শ্রেণী পরিবর্তন বা স্থাপনা তৈরি করা হলে তা ফিল্ডবইতে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। কিন্তু নরসিংদীতে আইনবহির্ভূতভাবে এমন অবৈধ স্থাপনা ফিল্ড বইতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ এই চরম ভোগান্তি লাঘবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং দেশবাসীর কাছে আর্জি জানানোর পাশাপাশি নিম্নলিখিত তিনটি সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানান।
সুপারিশগুলো হলো:
ক. দেশের অন্যান্য জেলার মতো আইন ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নরসিংদীতেও সম্পূর্ণ অবকাঠামো, জমির বাস্তব দোকান/বাণিজ্যিক শ্রেণী এবং ব্যবসায়িক ক্ষতিপূরণ ফিল্ডবইতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
খ. উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি করা অবৈধ অবকাঠামোগুলোকে যথাযথভাবে চিহ্নিত করে বাদ দিতে হবে, যেখানে ভুক্তভোগীরাও সহায়তা করতে প্রস্তুত।
গ. সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ভোগদখলকারীদের সমস্যা সমাধান করতে হবে।
তাই উপরোল্লেখিত বিষয়গুলোর আলোকে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের প্রতি প্রশাসনের এই স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
[ad_2]