
নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, দেশ এবং জাতি সশস্ত্র বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে। আমাদের কাছে তাদের যে প্রত্যাশা, একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অঙ্গীকারবদ্ধ, আমরা দেশ ও জাতিকে একটি সুন্দর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত নৌ কন্টিনজেন্টের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতির বিষয়ে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে এসে বরগুনা সদর নৌবাহিনী কন্টিনজেন্ট সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নৌবাহিনী প্রধান বলেন, অতীতের যে কোনো নির্বাচনের তুলনায় এবছর আমাদের সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সংখ্যা অনেক বেশি। শুধু নৌবাহিনীর ক্ষেত্রে আমরা প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য মোতায়েন করেছি। যা পূর্বের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। একই সাথে আমাদের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলে এবং দীপাঞ্চলে আমাদের জাহাজ এবং জলযান মোতায়েন করতে হয়েছে। আমাদের সাথে রয়েছে কোস্টগার্ড এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ। আমরা সবাই একসাথে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করছি। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমি চাই এই নির্বাচনে আপনারা প্রতিটি সদস্য, অফিসার, নাবিক আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সাথে এবং নির্ভয়ে আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সিভিল প্রশাসনের সাথে আমাদের সমন্বয়ে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অনেক বেশি দৃঢ়, অনেক বেশি গভীর। যেহেতু আমরা দীর্ঘদিন মোতায়েন রয়েছি। অতএব প্রতিটি অঞ্চলে এলাকা ভিত্তিক আমরা সে এলাকার চ্যালেঞ্জ এবং সে এলাকার সুবিধা-অসুবিধা সমূহ সম্পর্কে অবগত। তারপরও নির্বাচনের সময় আমাদেরকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। যাতে কোনোরকমের আইনশৃঙ্খলা বিরোধী অথবা কোনো রকমের সহিংসতা এবং বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয়। এ জন্য অন্যান্য বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সাথে আমাদেরকে নিবিড় সমন্বয় এবং যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন পরবর্তী দুই থেকে তিন দিন এই সময়টায় আমাদেরকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সকলের একটাই উদ্দেশ্য একটি সুন্দর এবং সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া। নির্বাচন অনুষ্ঠানের মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তারা রিটার্নিং অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে এই নির্বাচন পরিচালনা করে থাকেন। নির্বাচনের যেই সরঞ্জামাদি ব্যালট বক্স এবং ব্যালট পেপার থেকে শুরু করে সকল সরঞ্জামাদি নির্বাচন কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে নিরাপদের স্থানান্তর পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব বহাল থাকবে। আমরা এটা নিশ্চিত করব যে, নিরাপদে ভোট গণনা এবং ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত আমরা মোতায়েন থাকি। জনগণকে ভোটারদেরকে এই মর্মে আশ্বস্ত করি যে, তারা নিরাপদে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে পারবে। আমরা সবাই একত্রভাবে কাজ করে, আমাদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দেশপ্রেমের সাথে আমাদের দায়িত্ব পালন করে আবারও আমরা আমাদের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে যাব। আমাদের যে মূল কর্তব্য, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদের যে প্রস্তুতি, সে প্রস্তুতিতে আমরা আবার পূর্ণভাবে মনোনিবেশ করব। দেশ এবং জাতি একটা সুন্দর নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। আমাদের ওপর অর্পিত এই গুরু দায়িত্ব পালনে আমরা বদ্ধপরিকর এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।