[ad_1]
নারায়ণগঞ্জ শহরের ১নং রেলগেট এলাকায় মার্কেট নির্মাণ, খানপুরে কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণের কাজ বন্ধ এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথক দুইটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলন ও যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম।
বুধবার (১৩ মে) সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির এর কাছে স্মারকলিপি দুটি প্রদান করা হয়। এ সময় নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট মাহাবুবর রহমান মাসুম, ভবানী শংকর রায়, এডভোকেট জাহিদূল হক দীপু, অসিত বরণ বিশ্বাস, এডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজল, হাফিজুল ইসলাম, আবুনাইম খান বিপ্লব ও ধীমান সাহা জুয়েল।
স্মারকলিপিতে খানপুরে নির্মিতব্য কন্টেইনার পোর্ট প্রকল্প দ্রুত বন্ধের দাবি জানিয়ে বলা হয়, বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে নেয়া অনেক প্রকল্পই ছিল অপ্রয়োজনীয় ও জনস্বার্থবিরোধী। খানপুর কন্টেইনার পোর্টও তেমন একটি প্রকল্প বলে দাবি সংগঠনটির। তারা উল্লেখ করে, পানগাঁও কন্টেইনার পোর্ট দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে এবং এর ২০ শতাংশ সক্ষমতাও ব্যবহার হচ্ছে না। নগর ও সড়ক পরিকল্পনাবিদদের উদ্ধৃতি দিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়, খানপুরে কন্টেইনার পোর্ট বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ শহরে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হবে এবং বিশেষ করে চাষাঢ়া এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়বে। এ কারণে “নারায়ণগঞ্জকে বাঁচাতে” প্রকল্পটি বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
অপরদিকে ১নং রেলগেট এলাকায় রেলওয়ের জায়গা দখল করে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের কাজ বন্ধের দাবিও জানানো হয়। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, রেলওয়ের একটি অসাধু চক্র স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সহায়তায় ভূমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তৎপর রয়েছে। ২০১২ সালে প্রথম এ মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর আন্দোলনের মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালে পুনরায় নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করে এবং আদালতের নির্দেশে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়। তবে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে আবারও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এদিকে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের দেয়া অপর স্মারকলিপিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানানো হয়। সংগঠনটির দাবি, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সরকার গত ২৩ এপ্রিল গণপরিবহনের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করলেও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিএসএ) কিলোমিটারপ্রতি মাত্র ১১ পয়সা ভাড়া বাড়িয়েছে, যা মোট ভাড়ার ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। সে হিসেবে ১৮ কিলোমিটারের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ভাড়া বাড়ার কথা ছিল প্রায় ২ টাকা। কিন্তু গত ২ মে থেকে এ রুটে বাস ভাড়া ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে, যা তারা “অযৌক্তিক ও নিয়মবহির্ভূত” বলে উল্লেখ করেছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অতীতে গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে যাত্রী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হলেও এবার তা করা হয়নি। একতরফাভাবে ভাড়া বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে যাত্রী প্রতিনিধিরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের দাম কমলে বাস ভাড়াও পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা।
[ad_2]